সিসিটিভিতে ধরা পড়ল ওভারটাইমের চিত্র, কেউ ঘুমান রেস্ট রুমে, আবার কেউ মসজিদে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল বিভাগের হ্যাঙ্গার ইউনিটে ওভারটাইম ডিউটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ওভারটাইমে দায়িত্ব পালন করতে এসে কিছু কর্মী কাজের পরিবর্তে বিশ্রামাগার বা মসজিদে সময় কাটান। আবার কেউ কেউ উপস্থিতি নিশ্চিত করে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এ কারণে প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকার ওভারটাইম বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি হ্যাঙ্গার ইউনিটের সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন কর্মীকে দায়িত্ব পালন না করে ঘুমাতে দেখা যায়। পরে সেই ফুটেজের স্থিরচিত্র অভ্যন্তরীণ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হ্যাঙ্গার ইউনিটে নিয়মিত তিন শিফটে ওভারটাইম ডিউটি চালু থাকলেও সব সময় অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হয় না। তারপরও দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে ওভারটাইম চালিয়ে যাওয়ায় আর্থিক অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় একশ কর্মী ওভারটাইম সুবিধার আওতায় থাকেন। তাঁদের প্রত্যেকের মাসিক ওভারটাইম বিল প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে মাসিক ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকায় পৌঁছায় বলে দাবি করা হয়েছে।
একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাতের শিফটে দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মী কাজের পরিবর্তে বিশ্রামাগার বা মসজিদে অবস্থান করেন। কেউ কেউ আবার শুধু উপস্থিতি নিশ্চিত করেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এসব অভিযোগ সিসিটিভি ফুটেজেও উঠে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি ব্যয় সংকোচনের সময় এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দায়িত্ব পালন না করে ওভারটাইম ভাতা গ্রহণ করা হলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।
এদিকে, গত জুন মাসের ওভারটাইম বিল পর্যালোচনার সময় বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও পরিচালক (চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার) সৈয়দ মইন উদ্দীন ব্যয়ের বিষয়ে আপত্তি জানান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে বিলের পরিমাণ পুনর্বিবেচনা করা হয় বলেও জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, প্রতিটি বিভাগের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কন্ট্রোলিং কর্মকর্তা রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রতি / এডি / শাআ













