সাজেকে আটকা ৫ শতাধিক পর্যটক, রিসোর্ট ভাড়া মওকুফ করলেন মালিকরা
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। তবে এ ঘোষণার আগেই সাজেক ভ্যালিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েন।
আটকে পড়া এসব পর্যটকের কথা বিবেচনা করে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় রিসোর্ট মালিকরা। তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের কাছ থেকে কক্ষভাড়া নেওয়া হবে না। শুধু পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি সেবার প্রকৃত খরচ পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের দোকানগুলোও সীমিত মূল্যে খাবার সরবরাহ করবে।
টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির মাইনী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাজেকে যাতায়াতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর ফলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা এবং লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হয়েছে। এর পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধস এবং সড়কের মাটি ধসে পড়ায় যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মাইনী নদীর পানি বাড়তে থাকায় লংগদু-দীঘিনালা সড়কের মেরুং এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের নানিয়ারচরের কেঙ্গেলছড়ি অংশেও সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগও বেড়েছে।
সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক (যুবরাজ) বলেন, বাঘাইহাট ও মাচালং এলাকার নিচু অংশে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক সাজেকে অবস্থান করছেন। তাদের কাছ থেকে রিসোর্টের কক্ষভাড়া নেওয়া হবে না। কেবল পানি ও ইউটিলিটি সেবার খরচ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে খাবারের দোকানগুলোও স্বল্প খরচে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনে পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতি / এডি / শাআ










