ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ছাড়লেন জাবের, জুমাসহ ৬ জন

প্রকাশঃ জুলাই ১১, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ

ইনকিলাব মঞ্চের সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের, সহ-সভাপতি ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ ছয়জন দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওসমান হাদির ওয়ারিশদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজসহ সংগঠনের দায়িত্ব দাবিদারদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (তারিখ অনুযায়ী) রাতে নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পৃথক পোস্টের মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ করেন তারা।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন শুভ, ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ফাহিম আব্দুল্লাহ, অর্থ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রায়হান এবং উপ-নির্বাহী পরিচালক হাবিবুল্লাহ মিসবাহ।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আন্দোলনের পরিচিত মুখ শরীফ ওসমান বিন হাদি। তার উদ্যোগেই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গড়ে ওঠে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার। সংগঠনটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, বই প্রকাশ, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে।

ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সংগঠনের কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন আসে। সর্বশেষ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ছয়জন সদস্য একযোগে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন।

ফেসবুকে দেওয়া বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদি জীবদ্দশায় ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিলেও তা সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এটি জনতার আমানত হিসেবে পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল। হাদির মৃত্যুর পর গত ছয় মাস ধরে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয়টির সমাধানে তারা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

তিনি আরও জানান, ওসমান হাদির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব দাবিদারদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, আব্দুল্লাহ আল জাবের ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব এবং ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তিনি প্রথমে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সেটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন শুভ তার পোস্টে জানান, ওসমান হাদির অসমাপ্ত সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের চেষ্টা করলেও অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতা ও মানসিক চাপের কারণে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে। এসব কারণেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনের সহ-সভাপতি ফাতিমা তাসনিম জুমাও তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে ঘিরে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিরোধ সামনে আসে, যা পরবর্তীতে আরও জটিল আকার ধারণ করে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G