একা থাকার অভ্যাসে মিলতে পারে যে ৭টি উপকার
ব্যস্ততার মধ্যে আমরা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সময় দিতে গিয়ে নিজের জন্য আলাদা সময় বের করার কথা প্রায়ই ভুলে যাই। অথচ মানসিক স্বস্তি, আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিগত ভারসাম্য ধরে রাখতে প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে কাটানো উপকারী হতে পারে।
একা থাকা আর নিঃসঙ্গ থাকা এক বিষয় নয়। নিঃসঙ্গতা অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি করে। অন্যদিকে, নিজের ইচ্ছায় কিছু সময় নিরিবিলিতে কাটানো হতে পারে স্বস্তি ও আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ। বই পড়া, হাঁটা, গান শোনা, ডায়েরি লেখা কিংবা কোনো কাজ না করে কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকাও এর অংশ হতে পারে।
নিজের জন্য এমন সময় রাখার কয়েকটি ইতিবাচক দিক রয়েছে।
১. চিন্তাভাবনা গুছিয়ে নেওয়া সহজ হয়
প্রতিদিনের কাজ ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যস্ততায় নিজের অনুভূতি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবার সুযোগ অনেক সময় থাকে না। কিছুক্ষণ একা থাকলে নিজের বর্তমান পরিস্থিতি, চাওয়া-পাওয়া ও সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে শান্তভাবে ভাবা যায়। এতে অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
২. মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক
কাজের চাপ, একটানা যোগাযোগ এবং সারাক্ষণ ফোন ব্যবহারের কারণে মন ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। এমন অবস্থায় কিছু সময় ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থেকে পছন্দের কাজে মন দেওয়া মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। হাঁটাহাঁটি, বই পড়া, গান শোনা বা নিরিবিলিতে বসে থাকাও হতে পারে স্বস্তির উপায়।
৩. নিজের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে ধারণা বাড়ে
অন্যের মতামত ও পছন্দকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অনেক সময় নিজের ইচ্ছাগুলো আড়ালে পড়ে যায়। একান্ত সময় নিজের সঙ্গে থাকলে কোন বিষয় ভালো লাগে, কোন কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন কিংবা কোন পরিস্থিতিতে অস্বস্তি তৈরি হয়, সেসব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
৪. সৃজনশীল চিন্তার সুযোগ তৈরি হয়
নিরিবিলি পরিবেশে থাকার সময় মস্তিষ্ককে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ দেওয়া যায়। লেখালেখি, ছবি আঁকা, ছবি তোলা, নতুন কিছু শেখা কিংবা কোনো সমস্যার সমাধান নিয়ে ভাবার মতো কাজে একান্ত সময় সৃজনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
৫. আত্মনির্ভরতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে
সব সিদ্ধান্তের জন্য অন্যের মতামত বা অনুমোদনের ওপর নির্ভর না করে নিজের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ থাকার অভ্যাস আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে পারে। একা সময় কাটানোর মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত, প্রয়োজন ও সক্ষমতা সম্পর্কে আস্থা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
৬. প্রযুক্তি থেকে সাময়িক বিরতি মেলে
স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা ধরনের অনলাইন যোগাযোগ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু সবসময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলতে পারে। তাই দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ফোন দূরে রেখে বই পড়া, হাঁটাহাঁটি বা নিজের কোনো শখের কাজে মন দেওয়া শরীর ও মনের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
৭. অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কও ভালো হতে পারে
নিজের জন্য সময় রাখা মানে পরিবার বা বন্ধুদের এড়িয়ে চলা নয়। বরং নিজের অনুভূতি ও প্রয়োজন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সহজ হয়। নিজের মানসিক অবস্থাকে বুঝতে পারলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা, সীমারেখা ও আবেগ আরও ভালোভাবে সামলানো সম্ভব হতে পারে।
কীভাবে শুরু করবেন?
নিজের জন্য সময় বের করতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একা থাকার প্রয়োজন নেই। শুরুতে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করাই যথেষ্ট। এই সময় ফোনটি দূরে রেখে বই পড়তে পারেন, হাঁটতে পারেন, গান শুনতে পারেন, ডায়েরি লিখতে পারেন অথবা কোনো নির্দিষ্ট কাজ না করে শান্তভাবে বসে থাকতে পারেন।
তবে একা থাকার সময় যদি দীর্ঘদিন ধরে দুঃখ, বিচ্ছিন্নতা, অসহায়ত্ব বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করার প্রবল ইচ্ছা তৈরি করে, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যস্ত জীবনে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা বিলাসিতা নয়। এটি নিজের যত্ন নেওয়ার একটি সহজ উপায়। প্রতিদিনের অল্প কিছু ‘নিজস্ব সময়’ হয়তো জীবনের সব সমস্যা দূর করবে না, কিন্তু নিজের অনুভূতি বুঝতে, চিন্তা গুছিয়ে নিতে এবং মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেতে সাহায্য করতে পারে।
প্রতি / এডি / শাআ


















