দিনের যে ৩ সময়ে আয়াতুল কুরসি পড়লে বিশেষ ফজিলত পাওয়া যায়

প্রকাশঃ জুলাই ১২, ২০২৬ সময়ঃ ৯:২৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:২৬ অপরাহ্ণ

আয়াতুল কুরসি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। ইসলামে এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আয়াত হিসেবে পরিচিত। আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ, সর্বশক্তিমত্তা, জ্ঞান, ক্ষমতা ও মহিমার বর্ণনা এই আয়াতের মূল বিষয়। এ কারণেই আয়াতুল কুরসিকে কোরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আয়াত বলা হয়।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলতের কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও এই আয়াত যে কোনো সময় তেলাওয়াত করা যায়, তবুও কিছু নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ করার বিশেষ মর্যাদা ও উপকারিতার কথা হাদিসে এসেছে।

১. সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ

দিনের শুরু এবং সন্ধ্যার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করা মুমিনের জন্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সকালে এই আয়াত পাঠ করলে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যায় পাঠ করলে পরদিন সকাল পর্যন্ত আল্লাহর হেফাজত লাভ করা যায় এবং জিনের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

হাদিস:
‘যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে। আর যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত জিনের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকবে।’
(মুসতাদরাকে হাকিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৭৪৯)

২. প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর

ফরজ নামাজ আদায়ের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করাকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, নিয়মিত এই আমল পালনকারীর জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।

হাদিস:
‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো অন্তরায় থাকবে না।’
(সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪৪৩)

৩. রাতে ঘুমানোর আগে

ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করারও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। সহিহ হাদিসে এসেছে, এ সময় এই আয়াত পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা একজন ফেরেশতার মাধ্যমে বান্দাকে রাতভর হেফাজত করেন এবং শয়তান তার কাছে আসতে পারে না।

হাদিস:
‘যে ব্যক্তি রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য একজন হেফাজতকারী নিযুক্ত করবেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১০)

আয়াতুল কুরসি

ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَ‍ُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ

উচ্চারণ

আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়্যুম। লা তা’খুজুহু সিনাতুওঁ ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইন্দাহু ইল্লা বি ইজনিহি। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম। ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইইম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা’আ। ওয়া সিয়া কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা। ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজিম।

বাংলা অর্থ

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও সমগ্র সৃষ্টির ধারক-বাহক। তাঁকে তন্দ্রা কিংবা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, সবই তাঁর মালিকানাধীন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে না। সৃষ্টির সামনে ও পেছনের সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানের কোনো অংশই কেউ আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন ততটুকুই পারে। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে। এগুলো সংরক্ষণ করা তাঁর জন্য মোটেও কঠিন নয়। তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং মহামহিমান্বিত।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G