৭ বছর বয়সে বিশ্বজয়ের গল্প, ঘোরা শেষ সাত মহাদেশ

প্রকাশঃ এপ্রিল ৩, ২০২৬ সময়ঃ ৯:২০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:২০ অপরাহ্ণ

সাত বছরেই সাত মহাদেশ, বিস্ময় জাগানো ভ্রমণ কীর্তি এক মার্কিন শিশুর

খুব অল্প বয়সেই বিশ্ব ভ্রমণের এক অনন্য নজির গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এক শিশু। উইল্ডার ম্যাকগ্র নামের এই শিশুটি মাত্র সাত বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই পৃথিবীর সাতটি মহাদেশে পা রেখেছে।

এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা ঘুরে শেষ পর্যন্ত বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকায় গিয়ে তার ভ্রমণযাত্রা পূর্ণতা পায়। এত অল্প বয়সে এমন অর্জন অনেককেই অবাক করেছে।

জন্মের পরপরই শুরু ভ্রমণ

উইল্ডারের ভ্রমণ শুরু হয় জন্মের কিছুদিন পরই। ২০১৮ সালের আগস্টে, যখন তার বয়স মাত্র ৮ সপ্তাহ, তখনই মা–বাবার সঙ্গে প্রথম বিদেশ সফরে যায় সে। গন্তব্য ছিল পর্তুগাল।

এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, কানাডা ও মেক্সিকো ভ্রমণ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ভ্রমণের তালিকায় যুক্ত হতে থাকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল।

পরিকল্পনা নয়, জীবনধারা

উইল্ডারের মা জর্ডি লিপে-ম্যাকগ্র জানান, শুরুতে সাত মহাদেশ ভ্রমণের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। তাদের পরিবারের কাছে ভ্রমণটাই এক ধরনের জীবনধারা।

পরবর্তীতে দক্ষিণ আমেরিকা সফরের পরিকল্পনা করতে গিয়ে তারা লক্ষ্য করেন, উইল্ডার ইতোমধ্যে পাঁচটি মহাদেশে ভ্রমণ সম্পন্ন করেছে। তখনই বাকি দুই মহাদেশও ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

অ্যান্টার্কটিকা সফর ছিল বিশেষ

সব ভ্রমণের মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে আছে অ্যান্টার্কটিকা যাত্রা। সেখানে গিয়ে উইল্ডার বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী ভ্রমণকারীদের একজন হিসেবে পরিচিতি পায়।

এই সফরের সঙ্গে তার মায়েরও একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কারণ, উইল্ডার তার মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়েও তিনি একবার অ্যান্টার্কটিকা সফর করেছিলেন।

ভ্রমণের আসল উদ্দেশ্য

উইল্ডারের পরিবারের মতে, তাদের ভ্রমণের লক্ষ্য শুধুমাত্র নতুন জায়গা দেখা নয়। বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং জীবনের মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জর্ডি মনে করেন, এই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তার সন্তানের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সব মহাদেশ ভ্রমণ শেষ হলেও এখনই থামছে না তাদের যাত্রা। তবে আগের তুলনায় একটু ধীরগতিতে ভ্রমণ করতে চায় পরিবারটি।

জর্ডির ইচ্ছা ভবিষ্যতে গরিলা ট্রেকিংয়ে যাওয়ার। আর ছোট্ট উইল্ডারের আগ্রহ ইউরোপের কোনো ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেওয়া।

জর্ডি বলেন, এখন আর শুধু বাবা-মায়ের পরিকল্পনা নয়, ভ্রমণের সিদ্ধান্তে উইল্ডারের নিজের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

May 2026
SSMTWTF
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
20G