টানা ৪২ দিন চিনি খাওয়া বাদ দিলে শরীরে যেসব পরিবর্তন দেখা দিতে পারে

প্রথম প্রকাশঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৫৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

দৈনন্দিন খাবারের অনেক অংশেই অজান্তে অতিরিক্ত চিনি ঢুকে পড়ে। শুধু মিষ্টি, কোমল পানীয় বা চকলেটেই নয়, রুটি, সস, প্যাকেটজাত খাবার এমনকি অনেক স্বাস্থ্যকর মনে হওয়া খাবারেও থাকে বাড়তি চিনি। ফলে না বুঝেই প্রতিদিন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি খেয়ে ফেলেন অনেকেই।

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন সীমিত পরিমাণের বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত চিনি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দাঁতের ক্ষয়, ওজন বৃদ্ধি, প্রদাহ, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি এটি মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও মেজাজের ওঠানামার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

চিনি কমানো বা কিছু সময়ের জন্য বাদ দিলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে আগ্রহও কম নয়। কয়েক সপ্তাহ চিনি ছাড়া থাকার অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শরীরে ধীরে ধীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হতে পারে।

শুরুটা হতে পারে কঠিন

প্রথম কয়েক দিন চিনি না খাওয়া অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। মিষ্টি খাবারের প্রতি তীব্র আকর্ষণ, বারবার কিছু খেতে ইচ্ছা করা, খিটখিটে মেজাজ বা অস্বস্তি অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ চিনি মস্তিষ্কে দ্রুত আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। তাই শরীর ও মস্তিষ্ক কিছুদিন সেটির অভাব অনুভব করে।

শক্তি স্থিতিশীল হতে শুরু করে

চিনি কমিয়ে দিলে দিনের মধ্যে হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়া বা দুপুরের পর ঝিমুনি আসার প্রবণতা কমতে পারে। কারণ রক্তে শর্করার ওঠানামা কম হলে শরীরের শক্তিও তুলনামূলক স্থির থাকে।

মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ কমে

দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর অনেকেরই মিষ্টি খাবারের প্রতি আগ্রহ কমতে শুরু করে। তখন শরীর ধীরে ধীরে ফল, বাদাম বা প্রাকৃতিক খাবারের স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত মিষ্টির চাহিদাও কমে যায়।

স্বাদের অনুভূতি বদলে যায়

কয়েক সপ্তাহ চিনি কম খাওয়ার পর স্বাদের অনুভূতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। আগে যেসব খাবার কম মিষ্টি মনে হতো, সেগুলোই তখন যথেষ্ট মিষ্টি লাগতে শুরু করে। ফলে বাড়তি চিনি ছাড়া খাবার খেতেও অস্বস্তি হয় না।

শরীরের ভেতরের পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তি চিনি কমালে শরীরের চর্বি কমতে পারে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে বিপাকক্রিয়াও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করে।

আবার চিনি খেলে কী হতে পারে

কয়েক সপ্তাহ চিনি বাদ দেওয়ার পর হঠাৎ বেশি মিষ্টি খাবার খেলে সেটি আগের তুলনায় অতিরিক্ত মিষ্টি মনে হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে খাওয়ার পর ক্লান্তি, ঝিমুনি বা অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে।

পুরোপুরি নয়, নিয়ন্ত্রণই মূল কথা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনি একেবারে বাদ দেওয়া সবার জন্য জরুরি নয়। তবে বাড়তি চিনি কমিয়ে পরিমিত খাদ্যাভ্যাসে ফিরতে পারলে শরীর ধীরে ধীরে ইতিবাচক সাড়া দিতে শুরু করে।

অর্থাৎ, টানা কয়েক সপ্তাহ চিনি কমিয়ে রাখলে শরীরের শক্তি, স্বাদ, ক্ষুধা ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

20G