বিশ্বজুড়ে দ্রুত পরিচিতি পাচ্ছে এক বিশেষ ধরনের চা—গাবা চা। স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে এটি নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ। অনেকের দাবি, এই চা মানসিক চাপ কমাতে, ঘুমের মান উন্নত করতে এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের পর অস্বস্তি কিছুটা লাঘব করতে সহায়তা করতে পারে।
গাবা চা মূলত প্রচলিত চা পাতারই একটি ভিন্ন প্রক্রিয়াজাত রূপ। এটি গ্রিন, ব্ল্যাক বা ওলং চা পাতা দিয়ে তৈরি হলেও এর বিশেষত্ব হলো এতে গামা-অ্যামিনোবিউটারিক অ্যাসিড (গাবা) নামের একটি উপাদান থাকে, যা মানব মস্তিষ্কে স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত একটি নিউরোট্রান্সমিটার। এই উপাদান স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়।
সাধারণ চা তৈরির তুলনায় গাবা চা প্রস্তুত প্রক্রিয়া কিছুটা আলাদা। এটি তৈরি করা হয় অ্যানেরোবিক ফারমেন্টেশন পদ্ধতিতে, যেখানে চা পাতাকে অক্সিজেনবিহীন ও নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ পরিবেশে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় পাতার গ্লুটামিক অ্যাসিড গাবাতে রূপান্তরিত হয়। প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তি ১৯৮৪ সালে জাপানে ব্যবহার শুরু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাবা চায়ে এই উপাদানের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এর সম্ভাব্য উপকারিতাও বেশি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শরীরকে শিথিল রাখা, উদ্বেগ কমানো, ঘুমের মান উন্নত করা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা। যদিও হ্যাংওভার কমানোর বিষয়টি নিয়ে কিছু দাবি থাকলেও তা এখনও চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত নয়।
বিভিন্ন গবেষণায় গাবা চায়ের কিছু ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গাবা সমৃদ্ধ ওলং চা পানকারীদের মানসিক চাপ দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। আরেকটি গবেষণায় নিয়মিত সেবনের ফলে রক্তচাপ কমা ও মানসিক প্রশান্তি বাড়ার লক্ষণ দেখা যায়। তবে গবেষকরা এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।
বাজারে গাবা চায়ের বিভিন্ন ধরন পাওয়া যায়। এর মধ্যে তাইওয়ানের গাবা ওলং চা বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া জাপানের গাবা গ্রিন টি এবং গাবা ব্ল্যাক টি-ও ভিন্ন স্বাদের জন্য পরিচিত।
পরিমিত মাত্রায় গাবা চা পান সাধারণত নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে হালকা ঘুমভাব, রক্তচাপ কমে যাওয়া বা সামান্য পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যারা রক্তচাপ বা স্নায়ুবিষয়ক ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
প্রতি / এডি / শাআ