৮০ লাখ করদাতার তালিকা প্রস্তুত, নোটিশ দেবে এনবিআর

প্রকাশঃ এপ্রিল ২৮, ২০২৬ সময়ঃ ৯:২৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:২৩ অপরাহ্ণ

দেশে বিপুলসংখ্যক ইটিআইএনধারী এখনো আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। এই নন-ফাইলারদের শনাক্ত করতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তালিকা তৈরি করে তাদের কাছে নোটিশ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ তথ্য জানান এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ইটিআইএনধারী রয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখনও রিটার্ন জমা দেননি। ই-টিআইএন ও ই-রিটার্ন ডাটাবেজ ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নন-ফাইলারদের তালিকা তৈরি করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে তাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হবে। এরপরও কেউ রিটার্ন জমা না দিলে প্রয়োজনীয় যাচাইয়ে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, কর অডিট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ম্যানুয়াল নির্বাচন পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন ঝুঁকিভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় অডিট সিস্টেম চালু রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম ধাপে প্রায় ১৫ হাজার এবং দ্বিতীয় ধাপে আরও ৬০ হাজারের বেশি করদাতাকে অডিটের জন্য বাছাই করা হবে, যা পুরোপুরি সিস্টেমনির্ভর।

ভ্যাট ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে ৬০০ প্রতিষ্ঠানকে অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। বড় করদাতাদের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও আয়কর টিম যৌথভাবে অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশে ভ্যাট নিবন্ধনের সংখ্যা এখনো তুলনামূলক কম। এটি বাড়াতে আইনগত ও প্রক্রিয়াগত কিছু সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভ্যাটদাতাদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়মও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মোবাইল বা অনলাইন মাধ্যমেই কর পরিশোধ করা যায়।

কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ট্র্যাক করতে কিউআর কোডভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা ধাপে ধাপে বিভিন্ন পণ্যে প্রয়োগ করা হবে।

এছাড়া সাধারণ জনগণকে কর নজরদারিতে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। কেউ যদি পণ্যের কিউআর কোড স্ক্যান করে অনিয়ম শনাক্ত করে তথ্য দেন, তাহলে তাকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও থাকবে।

এনবিআরের মতে, পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও স্বচ্ছ হলে করদাতাদের হয়রানি কমবে এবং করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

[fbcomments]

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G