রহস্যে ঘেরা বিজ্ঞানী অ্যামি এসক্রিজের মৃত্যু, ফের আলোচনায় ‘অ্যান্টি-গ্রাভিটি’ গবেষণা
বিজ্ঞান কখনো শুধু সূত্র আর সমীকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—কখনো কখনো তা মানুষের স্বপ্ন, ভয় আর অজানা অন্ধকারের সাথেও জড়িয়ে যায়। ঠিক তেমনই এক গল্প ৩৪ বছর বয়সী গবেষক Amy Eskridge-এর।
অ্যান্টি-গ্রাভিটি—অর্থাৎ অভিকর্ষ শক্তিকে অতিক্রম করার স্বপ্ন—নিয়ে কাজ করছিলেন তিনি। এমন এক প্রযুক্তি, যা বাস্তব হলে বদলে দিতে পারত পরিবহন, শক্তি ও মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ। কিন্তু ২০২২ সালে তার হঠাৎ মৃত্যু প্রথমে “আত্মহত্যা” হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। ঘটনাটি তখন খুব বেশি আলোচনায় আসেনি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্পটি বদলাতে শুরু করে।
মৃত্যুর প্রায় চার বছর পর, সামনে আসে কিছু চমকে দেওয়া তথ্য। বিশেষ করে, মৃত্যুর মাত্র এক মাস আগে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা Frank Milburn-কে পাঠানো একটি বার্তা নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। সেখানে অ্যামি লিখেছিলেন—
“যদি কখনো শোনা যায় আমি আত্মহত্যা করেছি বা ড্রাগ ওভারডোজে মারা গেছি—বিশ্বাস করবেন না।”
এই একটি বাক্য যেন তার পুরো জীবনের ভয় আর অনিশ্চয়তাকে প্রকাশ করে দেয়।
অ্যামির মৃত্যু এখন আর শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি প্রশ্ন তুলছে পুরো বৈজ্ঞানিক পরিবেশের ওপর। অভিযোগ উঠেছে, বিকল্প শক্তি ও নতুন প্রপালশন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা কিছু গবেষকের ওপর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, নজরদারি এবং হয়রানি চলছিল।
শুধু অ্যামিই নন—যুক্তরাষ্ট্রে আরও কয়েকজন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। যদিও এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক বা কোনো সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্রের প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্তের দাবি উঠেছে উচ্চ পর্যায় থেকেও।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা মনে রাখা জরুরি—
অ্যান্টি-গ্রাভিটি প্রযুক্তি এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত বা কার্যকর বাস্তব প্রযুক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই এই ঘটনাকে ঘিরে যেসব দাবি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত, সেগুলোর অনেকটাই এখনো যাচাই-অযোগ্য বা অনুমানভিত্তিক।
তারপরও, অ্যামি এসক্রিজের গল্প আমাদের একটি গভীর সত্যের সামনে দাঁড় করায়—
বিজ্ঞানীরা শুধু আবিষ্কার করেন না, তারা মানুষও। তাদেরও ভয় থাকে, নিরাপত্তাহীনতা থাকে, এবং কখনো কখনো তারা এমন এক লড়াইয়ের মধ্যে পড়েন, যা গবেষণাগারের বাইরের।
অ্যামি চেয়েছিলেন পৃথিবীকে নতুন গতির স্বপ্ন দেখাতে। কিন্তু তার নিজের জীবনই থেমে গেল এক রহস্যের মোড়ে। তিনি যে সতর্কবার্তা রেখে গিয়েছিলেন, তা আজ শুধুই একটি তদন্তের নথি নয়—এটি এক তরুণ বিজ্ঞানীর শেষ আর্তনাদ, যা এখনো উত্তর খুঁজছে।
এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
অনেক সময় সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলো উত্তর পায় না ল্যাবরেটরিতে, বরং হারিয়ে যায় অদৃশ্য ক্ষমতার অন্ধকারে।
প্রতি / এডি / শাআ











