দিন দিন চুল পড়া এখন অনেকের বড় দুশ্চিন্তার কারণ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেই জানতে চান, কী খেলে চুল পড়া কমবে, চুল ঘন হবে, আর নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে। এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনিম জারা চুলের জন্য উপকারী ১০টি খাবারের কথা জানিয়েছেন। তার মতে, চুল সুস্থ, ঘন, কালো ও মজবুত রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরের ভেতর থেকে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা। কারণ চুলের যত্ন শুধু বাইরে থেকে তেল, শ্যাম্পু বা সিরাম ব্যবহার করলেই হয় না, ভেতর থেকেও প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, চুলের গোড়া শক্ত রাখতে এবং চুল পড়া কমাতে কিছু নির্দিষ্ট খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এসব খাবার রাখলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, চুল ঝরা কমে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করতে পারে।
চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তা ও আখরোটে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, বিশেষ করে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই উপাদান চুলের গোড়া পুষ্ট রাখে, চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে এবং চুলকে মজবুত করে। শরীর নিজে থেকে ওমেগা-৬ তৈরি করতে পারে না, তাই খাবার থেকেই এটি নিতে হয়। এর অভাবে চুল দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, এমনকি চুলের রংও ফিকে হতে পারে।
গাজর, মিষ্টি আলু, আম, পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়ার মতো হলুদ-কমলা রঙের ফল ও সবজিতে প্রচুর ভিটামিন এ থাকে। ভিটামিন এ চুলের ফলিকলকে সক্রিয় রাখে এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করে। চুলের গোড়া সুস্থ রাখতে এই ধরনের খাবার খুবই উপকারী।
ইলিশ, কৈ, মলা, টুনা বা স্যামনের মতো মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাট ও প্রোটিনের ভালো উৎস। এই উপাদানগুলো চুল ঘন, নরম ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ওমেগা-৩ মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়ক।
চুলের প্রধান উপাদান প্রোটিন, আর ডিম প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস। ডিমে বায়োটিন, সেলেনিয়াম ও ভিটামিন বি-১২ও রয়েছে, যা চুলের গোড়া মজবুত করে, চুলের ভাঙন কমায় এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
পালং শাকে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, আয়রনসহ চুলের জন্য প্রয়োজনীয় একাধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এগুলো মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছে দেয়।
ডাল প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক ও ফলেটের ভালো উৎস। এসব উপাদান চুলের গোড়া শক্ত করে, চুল পড়া কমায় এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
চিয়া সিড, সূর্যমুখীর বিচি, তিসি ও কুমড়ার বিচিতে ওমেগা-৩, জিঙ্ক, বায়োটিন ও সেলেনিয়াম থাকে। এসব উপাদান চুলের পুষ্টি জোগায় এবং চুল ঝরা কমাতে সাহায্য করে।
ছোলায় প্রোটিন, আয়রন ও জিঙ্ক রয়েছে। এই তিনটি উপাদান চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
টক দই প্রোটিন ও জিঙ্কের ভালো উৎস। এটি চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে এবং চুলকে মজবুত রাখতে সহায়ক।
কমলা, মাল্টা, লেবু, কিউই, টমেটো ও পেয়ারায় প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে, যা চুলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন সি-এর ঘাটতি হলে চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, শুধু ভেতর থেকে নয়, বাইরে থেকেও চুলের যত্ন নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কুমড়ার বীজের তেল বা পাম্পকিন সিড অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে নতুন চুল গজাতে ও চুল ঘন করতে সাহায্য করতে পারে।
চুলের জন্য বাজারে অনেক ধরনের ভিটামিন ট্যাবলেট পাওয়া যায়। তবে ডা. তাসনিম জারার মতে, এসব ট্যাবলেটের বেশিরভাগের পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং প্রয়োজনীয় পুষ্টি খাবার থেকেই নেওয়া ভালো। তবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে তা গ্রহণ করা যেতে পারে।
চুল ভালো রাখতে কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। যেমন, শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার না ব্যবহার করা, ভেজা চুল জোরে ঘষে মুছা, ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়ানো, অতিরিক্ত ব্লো ড্রাই ব্যবহার এবং খুব টাইট করে চুল বাঁধা।
সঠিক খাবার ও যত্ন নেওয়ার পরও যদি চুল পড়া না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। থাইরয়েড সমস্যা, রক্তশূন্যতা বা অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়ার মতো কারণেও চুল পড়তে পারে। তাই দীর্ঘদিন চুল পড়ার সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
প্রতি / এডি / শাআ