এনআইডিতে নতুন সংযোজন, যোগ হচ্ছে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম
পাসপোর্ট, ভিসা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নথিপত্রের সঙ্গে তথ্যের সামঞ্জস্য আনতে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নতুন পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এনআইডিতে পিতা-মাতার বাংলা নামের পাশাপাশি ইংরেজি নামও যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে নাগরিকের নিজের ডাকনাম এবং পিতা-মাতার ডাকনামও নিবন্ধন তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দেশের শিক্ষা সনদ, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিতে নাগরিকের নামের পাশাপাশি পিতা-মাতার নাম ইংরেজিতে উল্লেখ থাকে। কিন্তু এনআইডিতে এখন পর্যন্ত এই তথ্য শুধু বাংলা ভাষায় সংরক্ষিত হচ্ছে। ফলে বিদেশগমন, ভিসা আবেদন কিংবা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নথি যাচাইয়ের সময় তথ্যগত অসামঞ্জস্য তৈরি হয় এবং নাগরিকদের বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হয়।
বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর তথ্য ইংরেজিতে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন হয়। এ কারণে এনআইডিতে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম সংযুক্ত করা হলে নাগরিকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
সূত্রটি জানায়, এই পরিবর্তনের পরিকল্পনা নতুন নয়। আগেই এ বিষয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছিল। সদ্য সাবেক এনআইডি মহাপরিচালক এ এ এস এম হুমায়ুন কবীরের দায়িত্বকালে বিষয়টি কমিশনের অনুমোদন পায়। বর্তমানে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনার কাজ চলছে।
এনআইডি নিবন্ধন ফরম-২-তেও কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। মূল নামের পাশাপাশি নতুন একটি ঘর যুক্ত করা হবে, যেখানে নাগরিকের ডাকনাম উল্লেখ করা যাবে। একইভাবে পিতা-মাতার ডাকনামও সেখানে সংরক্ষিত থাকবে। তবে এসব ডাকনাম জাতীয় পরিচয়পত্রে মুদ্রিত হবে না, শুধু ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।
এ ছাড়া ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় একটি নতুন সুপারিশ ঘর যুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। সেখানে আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা সম্মানজনক পেশাজীবীর সুপারিশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ধারণা, এতে ভুয়া পরিচয়ে ভোটার হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং ভোটার তালিকার নির্ভুলতা বাড়বে।
এ ক্ষেত্রে সুপারিশকারী হিসেবে শিক্ষক, চিকিৎসক বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বিবেচনা করা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পিতা-মাতার পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রীর নামও ইংরেজিতে ডাটাবেজে যুক্ত হবে। তবে ডাকনামসংক্রান্ত তথ্য শুধু অভ্যন্তরীণ রেকর্ডে থাকবে, জাতীয় পরিচয়পত্রে মুদ্রিত হবে না। এনআইডিতে নাগরিকের নিজ নাম এবং পিতা-মাতার নাম বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই দেখানো হবে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পিতা-মাতা এবং স্বামী-স্ত্রীর ইংরেজি নাম যুক্ত করার পরিকল্পনা কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
প্রতি / এডি / শাআ













