লালদীঘি মোড় এখন ‘জব্বার চত্বর’, শনিবার শুরু হচ্ছে বলী খেলা
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি মোড়ের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘জব্বার চত্বর’। বলী খেলার প্রবর্তক ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগরের নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়। বুধবার চত্বরে স্থাপিত একটি ম্যুরাল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নতুন নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
ম্যুরালটির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ত্রিভুজ আকৃতির এই স্থাপনাটির এক পাশে টেরাকোটায় বলী খেলার দৃশ্য, অন্য পাশে হাতুড়ির প্রতীক দিয়ে ‘ন্যায়বিচারের পীঠস্থান’ এবং আরেক পাশে শেকল ভাঙার প্রতীক দিয়ে লালদীঘির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে, ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১১৭তম আসর অনুষ্ঠিত হবে শনিবার লালদীঘি মাঠে। এর আগে শুক্রবার থেকে শুরু হবে বৈশাখী মেলা, যা ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এসে মেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের সংগঠিত করতে লালদীঘি মাঠে বলী খেলার প্রচলন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর বাংলা পঞ্জিকার ১২ বৈশাখ এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা এখন চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
ম্যুরাল উদ্বোধনের আগে চসিক লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, বলী খেলা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরতেই চত্বরটির নামকরণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং আব্দুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল জানান, এবারের আসরের উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান শওকত আলী। খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
প্রতি বছর তিন দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবার এসএসসি পরীক্ষার কারণে সময়সীমা কমিয়ে দুই দিনে আনা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় রোববার ভোরের মধ্যেই মেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সেবার জন্য মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উৎসবের আমেজে আবারও জমে উঠতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের লালদীঘি এলাকা।
প্রতি / এডি / শাআ









