বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি সাবধানতা

প্রকাশঃ এপ্রিল ২৮, ২০২৬ সময়ঃ ৮:১৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:১৪ অপরাহ্ণ

‘তারা জয় করতে গিয়েছিল। পত্রিকায় দুঃসংবাদ হতে নয়।’

আমেরিকায় দুজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর জন্য লিমনের রুমমেট হিশামকে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তাদের এই দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছি না। সে প্রেক্ষিতে যারা বিদেশে পড়ছেন বা পড়তে যাবেন, তাদের রুমমেট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, সে ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিলাম। এগুলো তাদের মা-বাবাদেরও কাজে লাগবে।

১) বিশ্ববিদ্যালয়ের হাউজিং সিস্টেম ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে সিট বরাদ্দ করে। এ হাউজিং সিস্টেম ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে পরিচিত কারো মাধ্যমে রুমমেট বাছাই করা।

২) রুমমেট বাছাইয়ের আগে অন্তত কয়েকবার সামনাসামনি বা ভিডিও কলে আলাপ করা। সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল চেক করা। এর মাধ্যমে তার ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

৩) আইডি/স্টুডেন্ট আইডি চেক করা। তবে এই প্রসঙ্গটি ভদ্রভাবে তোলা উচিত, যেমন—‘চলো আমরা পরস্পরের বেসিক ইনফরমেশনগুলো শেয়ার করি।’

৪) অ্যালকোহল বা মাদকাসক্তি আছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা।

৫) শুরুতেই লিখিত চুক্তি করে নেওয়া। এতে ভাড়া শেয়ার করার ব্যাপারটি ছাড়াও একত্রে বসবাসের বিভিন্ন নিয়ম নিশ্চিত করা। যেমন, রুম পরিষ্কার করা, অতিথি আনা, শব্দের মাত্রা—এগুলো নিয়ে সুস্পষ্ট বোঝাপড়া।

৬) নিজের রুমের দরজা-জানালা সবসময় বন্ধ রাখা। এক্ষেত্রে দরজার অরিজিনাল লক ছাড়াও অতিরিক্ত তালা লাগানো জরুরি।

৭) যে দেশে আছে, সে দেশের ইমারজেন্সি হেল্প সেন্টারের নম্বর সেভ করে রাখা ও প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়া। (যেমন, আমেরিকায় ৯১১)

৮) কয়েকজন স্থানীয় বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিচিতের সাথে একটি পাসওয়ার্ড ঠিক করে রাখা। ফোন করে যেটি বললে বা টেক্সট করলে অন্যজন বুঝবে তার বন্ধু বিপদে পড়েছে। কারণ অনেক সময় বুঝিয়ে বলা বা লেখা সম্ভব নাও হতে পারে। তাদের সাথে লোকেশন শেয়ার করে রাখাও জরুরি, যাতে বিপদে তারা এগিয়ে যেতে পারে।

৯) সম্ভাব্য রুমমেটের সাথে কথা বলার সময় অস্বস্তিবোধ হলে অবশ্যই তার সাথে রুম শেয়ার করা যাবে না। ইনার ফিলিং বা নিজস্ব অনুভূতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি সাধারণত মিথ্যে বলে না।

১০) বাবা-মায়েরা সন্তানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। কথা বলবেন। তারা কোনো কারণে না পারলে ভাইবোনরা যোগাযোগ রাখবেন। আপনাদের পরামর্শ তাদের আরও সুরক্ষিত রাখবে।

জামিল এবং বৃষ্টিকে মহান আল্লাহতায়ালা কবুল করুন—তারা সেখানে ফুল হয়ে ফুটুক।

পাদটীকা: বাবা- মায়েরা সন্তানদের লেখাটি পড়তে বলতে পারেন। অন্যরাও শেয়ার করতে পারেন।

সূত্র: বাদল সৈয়দ, সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট (প্রেসিডেন্ট-ট্যাক্সেস অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল)

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G