হাড়ের ক্ষত সারাতে নতুন আবিষ্কার, প্রয়োজন হবে না হাঁটু প্রতিস্থাপনের
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় দুর্বল হওয়া, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা আর হাঁটুর ক্ষয়কে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ হিসেবে দেখা হয়। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, শরীরের ভেতরেই এমন একটি জৈব প্রক্রিয়া রয়েছে, যেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ক্ষয়প্রাপ্ত হাড় ও তরুণাস্থি আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এতে ভবিষ্যতে হাঁটু প্রতিস্থাপনের মতো জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও অনেক ক্ষেত্রে কমে যেতে পারে।
গবেষকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। ফলে হাড় দুর্বল, ভঙ্গুর ও ক্ষয়প্রবণ হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে হাঁটু, কোমর ও বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে। বিশেষ করে নারীদের রজোনিবৃত্তির পর এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষদের ক্ষেত্রেও অস্টিওপোরোসিস ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
এই গবেষণায় মূল গুরুত্ব পেয়েছে ‘১৫-পিজিডিএইচ’ (15-PGDH) নামের একটি প্রোটিন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বয়সের সঙ্গে এই প্রোটিনের কার্যকারিতা বাড়তে থাকলে হাড়ের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে অস্থি ও তরুণাস্থির ক্ষয় দ্রুত বাড়ে, দুর্বল হয় হাড়ের গঠন।
Stanford University-এর গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই প্রোটিনকে নিয়ন্ত্রণ বা নিষ্ক্রিয় করা গেলে হাড়ের ক্ষয় ধীর করা সম্ভব। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণাস্থি ও অস্থির স্বাভাবিক পুনর্গঠনও আবার সক্রিয় হতে পারে। এতে বয়সজনিত হাড়ের দুর্বলতা কমে আসবে এবং চলাফেরার সক্ষমতাও দীর্ঘদিন বজায় রাখা যেতে পারে।
গবেষণার প্রাথমিক ধাপে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, 15-PGDH প্রোটিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিলে ক্ষয়প্রাপ্ত কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি পুনর্গঠন শুরু করে। শুধু তা-ই নয়, হাড় আরও মজবুত হয় এবং ছিঁড়ে যাওয়া লিগামেন্টও তুলনামূলক দ্রুত জোড়া লাগে। পরে মানব অস্থিকোষের ওপর পরীক্ষাতেও একই ধরনের ইতিবাচক ফল মিলেছে বলে গবেষকদের দাবি।
বর্তমানে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় ব্যথানাশক, ফিজিওথেরাপি, ইনজেকশন কিংবা গুরুতর ক্ষেত্রে হাঁটু প্রতিস্থাপনের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে স্টেম সেল থেরাপিও প্রয়োগ করা হচ্ছে, তবে সেটি এখনও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।
গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে যদি 15-PGDH প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কার্যকর ওষুধ বা থেরাপি তৈরি করা যায়, তাহলে হাড়ের ক্ষয় থামিয়ে শরীরকেই নিজে থেকে ক্ষত মেরামতের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে এবং অনেক রোগী অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ থাকার সুযোগ পেতে পারেন।
প্রতি / এডি / শাআ









