বজ্রপাতের সময় যেসব কাজ থেকে দূরে থাকবেন

প্রথম প্রকাশঃ মে ১, ২০২৬ সময়ঃ ৯:১২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:১২ অপরাহ্ণ

আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো আর মেঘের গর্জন অনেকের কাছেই উপভোগের বিষয়। কিন্তু এই সময় সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, ঘরের ভেতরে থাকলেই পুরোপুরি নিরাপদ। বাস্তবে বজ্রপাতের সময় কিছু সাধারণ ভুলই ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই বজ্রঝড়ের সময় কোন কাজগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি, তা জানা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক

বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকে বড় গাছের নিচে দাঁড়ান। কিন্তু বজ্রপাতের সময় এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি। সাধারণত বজ্রপাত আশপাশের উঁচু বস্তুর ওপর আঘাত হানে। ফলে বড় গাছ সহজেই বজ্রপাতের লক্ষ্য হতে পারে।

গাছে বজ্রপাত হলে সেই বিদ্যুৎ খুব দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। কাছাকাছি থাকা ব্যক্তি সহজেই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই ঝড়ের সময় বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা উঁচু কাঠামোর নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

খোলা স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপদ নয়

মাঠ, ছাদ, খোলা বারান্দা বা ফাঁকা জায়গায় বজ্রপাতের সময় অবস্থান করাও সমান ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ খোলা জায়গায় আপনি নিজেই আশপাশের সবচেয়ে উঁচু বস্তুতে পরিণত হতে পারেন।

এমন অবস্থায় বজ্রপাত সরাসরি শরীরে আঘাত করার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আকাশে বিদ্যুৎ দেখা মাত্র খোলা স্থান ছেড়ে দ্রুত নিরাপদ দালান বা ঘরের ভেতরে চলে যাওয়া উচিত।

মাটিতে শুয়ে পড়া ভুল সিদ্ধান্ত

অনেকে ভাবেন, শরীর নিচু করে মাটিতে শুয়ে পড়লে হয়তো বজ্রপাতের ঝুঁকি কমবে। কিন্তু বাস্তবে এটি আরও বিপজ্জনক হতে পারে।

বজ্রপাত কাছাকাছি কোথাও আঘাত করলে তার বিদ্যুৎ মাটির ওপর দিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শরীরের বেশি অংশ মাটির সংস্পর্শে থাকলে সেই বিদ্যুৎ সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এতে হৃদ্‌যন্ত্র ও মস্তিষ্ক মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।

এ অবস্থায় মাটিতে শোয়ার বদলে শরীর নিচু করে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে বসা তুলনামূলক নিরাপদ।

ঝড় থামার সঙ্গে সঙ্গেই বাইরে যাওয়া ঠিক নয়

বৃষ্টি কমে গেলে বা মেঘের শব্দ থেমে গেলেই ঝুঁকি শেষ হয়ে যায় না। ঝড় থামার পরও কিছু সময় বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, শেষ বজ্রধ্বনি শোনার পর অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ আশ্রয়ে অপেক্ষা করা উচিত। কারণ মেঘে জমে থাকা বিদ্যুৎ পরে আঘাত হানতে পারে।

ধাতব জিনিস খুলতে সময় নষ্ট নয়

অনেকেই ঝড়ের সময় ঘড়ি, বেল্ট বা গয়না খুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এতে সময় নষ্ট করা ঠিক নয়। ধাতব বস্তু বিদ্যুৎ পরিবহন করলেও এগুলো বজ্রপাত টেনে আনে না।

তাই অলঙ্কার খোলার চেয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়াই বেশি জরুরি। তবে ধাতব হাতল, রেলিং বা ছাতা স্পর্শ করা এড়িয়ে চলা উচিত।

জানালার পাশে দাঁড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ

বৃষ্টি দেখা বা বিদ্যুৎ চমক উপভোগ করতে জানালার পাশে দাঁড়ানো অনেকের অভ্যাস। কিন্তু বজ্রপাতের সময় এটি নিরাপদ নয়।

জানালার গ্রিল, ধাতব ফ্রেম বা দরজার হাতল দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। তাই ঝড়ের সময় জানালার ধারে না দাঁড়িয়ে ঘরের ভেতরের অংশে অবস্থান করাই ভালো।

একসঙ্গে জড়ো হয়ে থাকা ঠিক নয়

ঝড়ের সময় অনেকেই একসঙ্গে জড়ো হয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু সবাই খুব কাছাকাছি থাকলে একসঙ্গে একাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

তাই বাইরে থাকলে একে অপরের থেকে কিছুটা দূরত্ব রেখে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ।

পোষা প্রাণীকেও নিরাপদে রাখুন

বজ্রঝড়ের সময় পোষা প্রাণীকেও বাইরে ফেলে রাখা উচিত নয়। কুকুর বা বিড়ালকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা বা বাইরে ছোট ঘরে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ।

ঝড় শুরু হলে পোষা প্রাণীকেও ঘরের ভেতরে নিয়ে আসা সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা।

সতর্ক থাকলেই কমবে ঝুঁকি

বজ্রপাতের সময় আতঙ্ক নয়, দরকার সচেতনতা। কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললেই বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। ঝড় শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যান, খোলা জায়গা এড়িয়ে চলুন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস থেকে বিরত থাকুন। সতর্ক থাকলেই বজ্রপাতের বড় ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

20G