টি২০ বিশ্বকাপ : পাকিস্তান ফাইনালে
ক্রীড়া ডেস্ক
অবশেষে পাকিস্তান নিজের চেনা রূপে হাজির হলো সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। সুপার-১২ পর্বে কোন ক্রমে উতরে গিয়ে সেমিতে আসা পাকিস্তান আজ প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালের টিকিট হাত নিয়েছে। হেসে খেলেই জিতেছে পাকিস্তান। এবার ফাইনালে পাকিস্তান প্রতিপক্ষ-কে সেটা কাল দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ঠিক হবে, হতে পারে ইংল্যান্ড বা হতো পারে ভারত।
২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম টি২০ বিশ্বকাপ আসরে পাকিস্তান ৫ রানে হেরে শিরোপা হাত ছাড়া করেছিল ভারতের বিপক্ষে। সেই পাকিস্তান ১৫ বছর পর আবারো টি২০ এর ফাইনালে হাজির।
আজ টস হেরেও নিউজিল্যান্ডকে তেঁড়ে ফুঁড়ে কিছু করতে দেয়নি পাক শিবিরের পেসার বাহিনী। ২০ ওভার শেষে জমা করে ১৫২ রান। পাক শিবিরের তারকা পেসার আফ্রিদি ইনিংসের ১ম বলেই চার খেলেন, পরের বলে এলবি’র আবেদন নাকচ এরপর তৃতীয় বলে এলবি’র আবেদন আর নাকচ করা সম্ভব ছিল না।
এমনই কঠিন আক্রমণের মুখে নিউজিল্যান্ডের মিডল অর্ডারের অধিনায়ক উইলয়ামসরে ৪২ বলে ৪৬ রানে সঙ্গে ভরসা করা গ্লেন ফিল্পিস ৬ রানে ফেরত যান। ৪৬ রানে থাকা উইলিয়ামসকে আাফ্রিদি ফেরত পাঠালে প্রচন্ড চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তবে মিডল অর্ডারে নামা ৫ম জুটিতে মিশেল আর জেমস মিলে দলকে ১৫২ অবদি টেনে নিলেন। তাতে মিশেলের ছিল ৩৫ বলে ৫৩ রান, ১৫২/৪।
১৫৩ রানের জবাবে উড়ন্ত পাখির মতোই দেখা মিলল পাকিস্তানের ওপেনিং জুটিকে। টানা ১০ ওভার অবদি ৮৭ রান, স্কোর বোর্ডে তখনও কোন উইকেট পতন ঘটেনি। কিন্তু প্রথম ওভারের প্রথম বলেই ১ রানে থাকা বাবর ক্যাচ আউট হয়ে যেতে, যদি ফিল্ডার কনওয়ে বল হাতে রাখতে পারতেন।
এরপর টানা ১২ ওভার পেরিয়ে গেলেও নিউজিল্যান্ড হতাশা ছাড়া আর কোন কিছু পায়নি। ১২.৫ ওভারে আসে প্রথম সফলতা। ওপেনার বাবর আযম তুলে মারলেন, এবং যথারীতি ৩০ তম টি২০ ফিফটির স্বাদ নিয়ে ৫৩ রানে আউট হলেন। এরপর পাক শিবিরের স্কোর বোর্ডে লেখা হলো ১০৫/১, ৪২ বরে ৪৪ হলেই ফাইনালের বিমানে চড়বে পাকিস্তান।
বাবরের পর ক্রিজে আসা হারিসের সঙ্গী হয়ে ২৩তম ফিফটিটা করে ফেরলেন আরেক ওপেনার রিজওয়ান। পাকিস্তানের জন্য ফাইনালের বিমানটা ৩১ রান দূরে, বল ছিল ৩০টি। ১৭ ওভারের শেষ বলে ৫৭ রান করা রিজওয়ান আউট। কিন্তু হারিস এক বাউন্ডারি আর এক ছক্কা মেরে খেলা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় পাক শিবিরি, শেষ ১২ বলে দরকার ৮ রান, ৯ বলে ৬ রান আর শেষ ৭ বলে ২ রানের টার্গেট! কিন্তু মজার বিষয় ১৯তম ওভারের শেষ বলে উইকেটের পতন, ৬ বলে ২ রান। ১৯.১ ওভারে আসে ১৫৩/৩, ৭ উইকেটের জয় দিয়ে পাকিস্তান ফাইনালে।


















