পৌর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রভা অরোরা’র উদ্যোগে মতবিনিময়

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২৮, ২০২২ সময়ঃ ৬:৪৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৬:৪৯ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদন

মোহাম্মদপুরের খিলজী রোডে প্রভা অরোরা কার্যালয়ে প্রভা অরোরা’র দেড় বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে প্রভা অরোরা‘র দেড় বছরের অভিযোজন ও প্রশমন নিয়ে প্রোডাক্ট ও সার্ভিস ওরিয়েন্টেড বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বিষয়ে একটি সেকেন্ডারী রিসার্চ এর ফলাফলও তুলে ধরা হয়।

আজ “ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই উৎপাদন বাংলাদেশে পৌর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক উদ্ভাবনী সমাধান” শিরোনামে প্রভা অরোরা‘র পক্ষ থেকে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। টেকসই ব্যবসায়িক প্রচেষ্টা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় পরিসরে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই উৎপাদন কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং বাংলাদেশের পৌর এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্বল্প ব্যয়ে কীভাবে একটি উদ্ভাবনীমূলক ও পরিবেশবান্ধব সমাধান দেওয়া যেতে পারে সেটা বিশদভাবে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই গবেষণাটি করা হয় বলে প্রভা অরোরা’র পক্ষ থেকে জানানো হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখানো হয়, ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই হলো এক ধরনের উপকারী মাছি, যা অবর্জনাকে সম্পদে পরিণত করতে সহায়তা করে থাকে এবং সেইসাথে পোল্টিখাতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের চাহিদাও পূরণ করে থাকে। বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা সাধারণত ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকে এবং কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, সারা বছর জুড়ে এই তাপমাত্রা ১৫-৩৪ ডিগ্রী থাকে। এ ধরনের জলবায়ু ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সাধারণভাবে বাংলাদেশের গড় আর্দ্রতা শতকরা ৮০ ভাগ থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৬০-৭০ ভাগ আর্দ্রতা দেখা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের এ ধরনের অবস্থা ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই উৎপাদন, চাষ ও বংশবিস্তারের জন্য খুবই উপযোগী।

বাজারে প্রচলিত ফিডের তুলনায় ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই লার্ভাতে শতকরা ৫০-৬০ গুণ বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়। এছাড়া ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই লার্ভা ফিড হিসেবে ব্যবহৃত হলে সেটা বাজারে প্রচলিত খাবারের তুলনায় ৩০% বেশি পোল্টির বৃদ্ধিতেও সহযোগিতা করে থাকে। প্রভা অরোরা‘র পক্ষ থেকে সেকেন্ডারী রিসার্চ এর এই ফলাফল তুলে ধরেন এসিসটেন্ট ম্যানেজার ইন রিসার্চ এন্ড স্পেশাল ইনিশিয়েটিভস্ মাহিনূর নাজিয়া ফারাহ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, চীন, জাপান, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, নাইজেরিয়া এবং ইউরোপের কিছু দেশেও ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই সফলভাবে চাষ করে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ও ব্যবসায়িকভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই ফার্মিং এর মাধ্যমে চাষী, মৎস্যচাষী এবং পোল্ট্রি চাষীরা কম খরচে উপযোগী খাবার, গুণাগুণ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ সার পাবে। যার ফলে তারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা অর্জনের পাশাপাশি বসতবাড়ির আবর্জনার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও হবে, যা পরিবেশ সুরক্ষায়, মাছ ও পোল্ট্রির জন্য প্রোটিন সমৃদ্ধ উপযোগী খাবার এবং উন্নতমানের পুষ্টিগুণ সমুন্নত সার সরবরাহ করার ক্ষেত্রেও অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও তরুণ-তরুণীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কাজী মদিনা, আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক উপদেষ্টা ড. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্যবিদ ড. আবু জামিল ফয়সাল, স্থপতি সালমা এ শফি, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ডা. মো. আফতাব উদ্দিন, জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত পরিবেশকর্মী মতিন সৈকত, উন্নয়নকর্মী কান্তা দেবী, কৃষিবিদ মোঃ আফজাল হোসেন ভুঁইয়া, এসিআই এর প্রতিনিধি শাহ মোহাম্মদ আরেফিন, এসওএস বাংলাদেশের প্রতিনিধি ডালিয়া দাস, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিঃ এর সাবেক কর্মী আশফাকুল হক, উন্নয়নকর্মী রফিকুজ্জামান পল্লব, মাগুড়া জেলার তথ্য কর্মকর্তা পাভেল দাস প্রমুখ উপস্থিত থেকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অভিমত প্রকাশ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার প্রেক্ষিত বিবেচনায় এবং পরিবেশ সুরক্ষার আঙ্গিক চিন্তা করে সবাই এই উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে (বিশেষভাবে Organic Waste) সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকর উপায়ে ডিম উৎপাদন, হাঁস, মাছ এবং মুরগির চাষও করা সম্ভব হবে। এছাড়া জৈব সার এবং ঘরের ভেতরে লাগানোর গাছ চাষেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে সমন্বিত এই উদ্যোগ থেকে। শুধু উদ্যোগ নয় এর সাথে যুক্ত থাকবে নিয়মিত গবেষণা। যার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগ আরও সমৃদ্ধ করার একটি প্রচেষ্টাও যুক্ত থাকবে। ফলে সবমিলিয়ে উদ্যোগটি একটি উদ্ভাবনীমূলক ও মডেল উদ্যোগ হবে- যা শুধু দেশেই নয়, বিশ্বেও নিঃসন্দেহে নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করবে।

প্রভা অরোরা’র প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিধান চন্দ্র পাল বলেন, প্রভা অরোরা বিশেষ স্থানীয় ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ হিসেবে ‘‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই: পরিবেশবান্ধব খামার ও পুষ্টি সমাধান’ শুরু করতে যাচ্ছে। প্রভা অরোরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগটি সাতক্ষীরা সদরে শুরু করছে। এই উদ্যোগে আমরা বেশ কিছু বৈচিত্র্য যুক্ত করতে যাচ্ছি এবং পুরো কার্যক্রমটি পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়াতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করতে যাচ্ছি বলেও এ সময় তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, পরিবেশ সুরক্ষা, মানুষের পুষ্টি নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন আঙ্গিক বিবেচনায় ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই চাষ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G