বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে চীন, দুশ্চিন্তায় ভারত

প্রকাশঃ জুন ২০, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৪১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৪১ অপরাহ্ণ

তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কাজ শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় গড়ে ওঠা এই মেগা প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে নদীর প্রবাহ ও আঞ্চলিক জলব্যবস্থার ওপর এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

চীনের বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প

চীনের নির্মাণাধীন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রকল্পটির অবস্থান এমন একটি অঞ্চলে, যেখান থেকে ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নয়াদিল্লিতে কৌশলগত আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

ভারতের পাল্টা পরিকল্পনা

চীনের উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে ভারতও অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার মেগাওয়াট।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসির তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে প্রকল্পটি। এটি চালু হলে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা

এসইউএমপি প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তবে বর্তমানে এটি সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে চীনের মেডোগ প্রকল্পে ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে গেছে, যা দুই দেশের অগ্রগতির মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি করেছে।

কেন উদ্বিগ্ন ভারত?

তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত নদীটি ভারতে প্রবেশ করার পর ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত হয় এবং পরবর্তীতে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষি, পরিবেশ এবং স্থানীয় অর্থনীতির জন্য এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে বিশাল বাঁধ নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য, কৃষি উৎপাদন এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কিছু বিশ্লেষক আবার সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যা কিংবা পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেছেন।

সরকারের নজরদারি

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্ন অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরেই আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় তথ্য আদান-প্রদান এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তবে এ ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যায়নি।

কৌশলগত গুরুত্বও বাড়ছে

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নয়, বরং বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানের সম্ভাব্য পানি ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে প্রকল্পটি অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

প্রস্তুতি জোরদার উত্তর-পূর্ব ভারতে

সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নয়ন, নদী পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G