২০২৩ এশিয়া কাপ : ভারত পাকিস্তানে যাবে না

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৮, ২০২২ সময়ঃ ৬:২৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৬:২৫ অপরাহ্ণ

বিসিসিআই সেক্রেটারি এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি জে শাহের মতে এশিয়া কাপ ২০২৩ টুর্নামেন্টটি পাকিস্তানের বাইরে চলে যেতে পারে। ভারত ২০২৩ সালে এশিয়া কাপে অংশ নিতে ভারত পাকিস্তানে যাবে না। টুর্নামেন্টটি এখন কোথায় অনুষ্ঠিত হতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারত। মুম্বাইতে বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।  সভায় বিসিসিআই সেক্রেটারি জে শাহ (এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) এর সভাপতি) পরামর্শ দিয়েছিলেন যে পরের বছরের এশিয়া কাপ অন্য কোথাও আয়োজন করতে হবে।

“এশিয়া কাপ ২০২৩ একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। আমি এসিসি সভাপতি হিসেবে এটা বলছি। আমরা [ভারত] সেখানে [পাকিস্তানে] যেতে পারি না, তারা এখানেও আসতে পারে না। অতীতেও এশিয়া কাপ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা হয়েছে।” জে শাহ বিসিসিআইয়ের এজিএম শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন। জে শাহ মিডিয়ার সাথে কথা বলার সময় বিসিসিআইয়ের নতুন সভাপতি রজার বিনি, কোষাধ্যক্ষ আশিস শেলার এবং পুনঃনির্বাচিত হওয়া বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা  উপস্থিত ছিলেন।

জে শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পিসিবি এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। জে শাহ এই বিষয়ে কোন ক্ষমতা বলে এ কথা বলেছেন। কেন তিনি বিসিসিআই এজিএমে এসিসির প্রসঙ্গে উত্থাপন করার মঞ্চ হিসেবে বেছে নিলেন। পিসিবির একজন মুখপাত্র বলেছেন, বোর্ড এই পর্যায়ে এই বিষয়ে মন্তব্য করবে না। তবে একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া পিসিবি অবশ্যই দেবে।  উদাহরণস্বরূপ পিসিবি ঐ মুখপাত্র ইতিমধ্যেই এসিসি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বোর্ডের মধ্যে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

জে শাহের মন্তব্য আইসিসি ইভেন্টগুলির জন্যও কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। যার মধ্যে দুটি ইভেন্ট আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে। এশিয়া কাপের পরেই ভারত ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপের আয়োজক হতে চলেছে। তারপরে পাকিস্তান ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন করবে। ভারত যদি পাকিস্তানে খেলতে না যায়, সেক্ষেত্রে একইভাবে পাকিস্তান ভারতে না খেলতে যাবে না। তাহলে সেই টুর্নামেন্টগুলিতে কী প্রভাব ফেলবে তা দেখার বিষয়। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে  পাকিস্তান ভারতে খেলতে আসার জন্য তাদের সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল এবং শুধুমাত্র শেষ মুহূর্তে তা পেয়েছিল। আইসিসি এই মুহূর্তে এই বিষয়ে মন্তব্য করার সম্ভাবনা কম।

পাকিস্তানে ভারতের শেষ সফর ছিল ২০০৮ এশিয়া কাপে। যেখানে পাকিস্তানের শেষ ভারত সফর ছিল ২০১৬ সালের আইসিসি ইভেন্টের জন্য। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে, ২০১২-১৩ সালে পাকিস্তান শুধুমাত্র সাদা বলের সিরিজের জন্য ভারত সফর করার পর থেকে তারা কোনো দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট খেলেনি।

ভারত ও পাকিস্তান এই বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২২ এশিয়া কাপে শেষবার একে অপরের সাথে খেলেছিল এবং ২৩ অক্টোবর মেলবোর্নে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবে। সেই খেলায় পরিবেশটি কিছুটা হলেও  উত্তেজনাকর হবে।

একজন কর্মকর্তা বলেন, দুদকের বোর্ড পর্যায়ে আলোচনা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। প্রকৃতপক্ষে, এই বছরের মার্চে একটি বৈঠকের পর – জে শাহের এসিসি সভাপতিত্বে – এটি নিশ্চিত করা হয়েছিল যে পাকিস্তান এশিয়া কাপ আয়োজন করবে। কিন্তু ভারতীয় বোর্ডের মধ্যে যথেষ্ট অসন্তোষ আছে। যে কারণে এসিসি থেকে সম্পূর্ণভাবে ভারতের সদস্য পদ প্রত্যাহার করাও চিন্তাভাবনা করা হয়েছে।

এসিসি 80-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এসিসি পুরোপুরি ভাবে কাজ করেনি. ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ই অতীতে এশিয়া কাপের আগের সংস্করণগুলি থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দুর্বল সম্পর্কের কারণে টুর্নামেন্টটি বাতিল করা হয়েছে। শেষ দুটি সংস্করণ সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলা হয়েছিল, মোট চারবার আমিরাত টুর্নামেন্টের আয়োজক হয়েছে।

সূত্র : ক্রিকেইনফো

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G