কুয়েত স্টেশনে অতিরিক্ত ব্যাগেজে অনিয়ম, রাজস্ব ক্ষতি ও নিরাপত্তা শঙ্কা

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

অতিরিক্ত ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার আড়ালে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কুয়েত স্টেশনকে ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু অসাধু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে যাত্রীদের নির্ধারিত সীমার বাইরে বিপুল পরিমাণ মালামাল বহনের সুযোগ দিচ্ছেন, যার ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, এ ধরনের অনিয়ম ফ্লাইট নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, প্রকৃত ওজন গোপন রেখে লোড শিটে কম দেখানো হলে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

সম্প্রতি কুয়েত থেকে ঢাকাগামী একটি ফ্লাইটে পরিচালিত আকস্মিক তদন্তে বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে ১৪ জন যাত্রীর ব্যাগেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ১২ জনই নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ওজন বহন করেছেন। কিন্তু এ অতিরিক্ত ওজনের জন্য কোনো সরকারি ফি আদায় করা হয়নি, এমনকি কোনো রসিদও ইস্যু করা হয়নি।

২৩ জানুয়ারি পরিচালিত ওই ফ্লাইটে প্রায় ১৭৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত কয়েকজনের লাগেজ তল্লাশিতে যে অনিয়ম ধরা পড়ে, তা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও নড়েচড়ে বসে এবং বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়।

এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি স্টেশনগুলোতে এ ধরনের ‘ব্যাগেজ বাণিজ্য’ অনেকাংশে প্রকাশ্য গোপন রহস্যে পরিণত হয়েছে। চেক-ইন কাউন্টারে সরাসরি অর্থ লেনদেন হলেও তা সরকারি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ফলে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানায়, এ ধরনের অনিয়মের কারণে শুধু একটি ফ্লাইট থেকেই কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আরও কারা এতে জড়িত থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, কুয়েত স্টেশনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত ব্যাগেজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, একই স্টেশনে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে একজন কর্মকর্তার স্ত্রীকে একই স্টেশনে পদায়ন করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন এবং অফিসিয়ালি যোগাযোগ করতে বলেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাধারণ যাত্রীরা সামান্য অতিরিক্ত ওজনের জন্য জরিমানা দিলেও বড় পরিসরে এমন অনিয়ম প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়। এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি একই স্টেশনে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে কর্মরত থাকার বিষয়টিও নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করা হবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G