হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন শর্ত দিল ইরান
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যদি বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ওমান অংশ দিয়ে চলাচল করে, তাহলে সেগুলোর ওপর কোনো ধরনের হামলা না চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে তেহরান।
তবে এই প্রস্তাবের সঙ্গে শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের কিছু দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে তবেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়নযোগ্য হবে।
হরমুজ প্রণালী প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কৌশলগত জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর উত্তর পাশে ইরান এবং দক্ষিণ পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। বিশেষ করে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হরমুজ প্রণালী হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর জ্বালানি আমদানিতেও এই পথের গুরুত্ব অনেক বেশি। সার ও বিভিন্ন কাঁচামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সাধারণ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে হরমুজে চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় বলে জানা যায়। এতে অনেক জাহাজকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে আটকে পড়া জাহাজ নিয়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এলাকায় শত শত জাহাজ এবং দুই হাজারেরও বেশি নাবিক আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতি / এডি / শাআ









