তেতো হওয়া সত্ত্বেও কফি কেন বিশ্বজুড়ে এত জনপ্রিয়?
কফির স্বাদ তেতো হলেও বিশ্বজুড়ে এর জনপ্রিয়তা কম নয়। বরং নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে বেশ চমকপ্রদ তথ্য। গবেষকদের মতে, যেসব মানুষ কফির তেতো স্বাদ দ্রুত অনুভব করতে পারেন বা এ স্বাদের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, তাদের মধ্যেই কফি পানের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, কফির তেতো স্বাদ উপলব্ধির বিষয়টি শুধু জিহ্বার স্বাদগ্রহণ ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল নয়। এর সঙ্গে মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এর অনলাইন সংস্করণে।
গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ফাইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক মেরিলিন কর্নেলিস। তিনি জানান, সাধারণ ধারণা অনুযায়ী তেতো স্বাদের প্রতি বেশি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের কফি এড়িয়ে চলার কথা। কিন্তু গবেষণার ফল বলছে ভিন্ন কথা।
গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নিয়মিত কফি পানকারীরা ধীরে ধীরে ক্যাফেইনের প্রভাবের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন। কফি পান করার পর যে সতেজতা, উদ্দীপনা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, সেটিকে তারা ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করেন। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তেতো স্বাদও তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য এমনকি উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
অর্থাৎ, যাদের স্বাদগ্রহণ ক্ষমতা ক্যাফেইনের তেতো বৈশিষ্ট্য সহজে শনাক্ত করতে পারে, তারা কফি থেকে দূরে সরে যান না। বরং কফি পানের পর পাওয়া প্রাণবন্ত অনুভূতি ও বাড়তি শক্তির সঙ্গে এই স্বাদকে যুক্ত করে ফেলেন। এ কারণেই তেতো স্বাদ থাকা সত্ত্বেও কফি তাদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
প্রতি / এডি / শাআ


















