জেট ফুয়েলের দাম কমায় কমছে বিমান ভাড়া, স্বস্তিতে যাত্রীরা

প্রকাশঃ জুলাই ১৪, ২০২৬ সময়ঃ ১০:২১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২১ অপরাহ্ণ

দেশে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই বিমান ভাড়া কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেট ফুয়েলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমে আসায় ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ কয়েকটি রুটে টিকিটের মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগে প্রায় ৮০০ টাকা ভাড়া কমানোর পর সম্প্রতি আরও প্রায় ৭০০ টাকা পর্যন্ত সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটেও পর্যায়ক্রমে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের প্রস্তুতি চলছে।

বিমান সংস্থাগুলো বলছে, উড়োজাহাজ পরিচালনার অন্যতম বড় ব্যয় জ্বালানি হলেও টিকিটের দাম নির্ধারণে এটি একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়। মোট ভাড়ার ওপর জেট ফুয়েলের প্রভাব সাধারণত ৩০ শতাংশের মতো, আর বাকি অংশ নির্ভর করে যাত্রীর চাহিদা, কর, বিভিন্ন ফি, ডলারের বিনিময় হার এবং পরিচালন ব্যয়ের ওপর।

জ্বালানির দাম কমলেও আগের অবস্থায় ফেরেনি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের জেট ফুয়েলের মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কয়েক দফায় জেট ফুয়েলের মূল্য কমিয়েছে।

সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ দামের তুলনায় অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের মূল্য প্রতি লিটারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে। আন্তর্জাতিক রুটের জ্বালানির দামেও হ্রাস এসেছে। তবে বর্তমান মূল্য এখনও সংঘাত শুরুর আগের স্বাভাবিক দামের চেয়ে বেশি রয়েছে।

ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত এয়ারলাইন্সগুলোর

দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানির মূল্য কমে যাওয়ায় পরিচালন ব্যয় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ফলে যাত্রীদের সুবিধা দিতে ইতোমধ্যে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে নতুন করে ভাড়া কমানো হতে পারে।

তাদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যাত্রী আকর্ষণ এবং ভ্রমণকে আরও সহজলভ্য করতে টিকিটের দাম বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জেট ফুয়েলের দাম কমলেই বিমান ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব নয়। বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি, বিভিন্ন সরকারি চার্জ, কর এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও টিকিটের মূল্যে বড় ভূমিকা রাখে। এসব খাতে কিছুটা ছাড় দিলে যাত্রীরা আরও কম খরচে আকাশপথে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব

বিমান ভাড়া কমার খবরে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটন ও ব্যবসায়ী মহলেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা জরুরি কাজে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের ধারণা, টিকিটের দাম কমলে কক্সবাজার, সৈয়দপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটেও যাত্রীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে পারে।

আরও কমতে পারে ভাড়া

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বর্তমান ধারায় কমতে থাকলে এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিমান খাতের কর ও ফি পুনর্বিবেচনা করা হলে ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই টিকিটের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যেমন যাত্রীদের ব্যয় কমবে, তেমনি দেশের বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতও নতুন গতি পাবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G