হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা বাড়াতে এখনই চালু করুন এই ৫ সেটিংস
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহারকারীদের কথোপকথন ও কলের সুরক্ষায় ডিফল্টভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবস্থা চালু থাকে। এর ফলে সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ বার্তার মূল বিষয়বস্তু দেখতে পারেন না।
তবে শুধু এনক্রিপশন থাকলেই অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি নিরাপদ থাকে না। ব্যক্তিগত তথ্য কারা দেখতে পারবেন, ফোন অন্যের হাতে গেলে চ্যাট কতটা সুরক্ষিত থাকবে কিংবা কেউ অ্যাকাউন্টে অননুমোদিতভাবে ঢোকার চেষ্টা করলে কীভাবে তা ঠেকানো যাবে, সেসব বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। হোয়াটসঅ্যাপের কয়েকটি বিল্ট-ইন সেটিংস ব্যবহার করে নিরাপত্তার মাত্রা আরও বাড়ানো যায়।
১. প্রাইভেসি চেকআপ দিয়ে তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নিন
হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা সেটিংস ঠিক করার সহজ একটি উপায় হলো প্রাইভেসি চেকআপ ব্যবহার করা। সেটিংসের প্রাইভেসি বিভাগে গিয়ে এই সুবিধাটি চালু করলে প্রোফাইল ছবি, অ্যাবাউট, স্ট্যাটাস ও লাস্ট সিনের মতো তথ্য কারা দেখতে পারবেন, তা যাচাই করা যায়।
প্রয়োজনে ‘মাই কন্ট্যাক্টস’ নির্বাচন করে এসব তথ্য শুধু পরিচিত নম্বরগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়। আরও বেশি গোপনীয়তা চাইলে ‘নোবডি’ অপশনও বেছে নেওয়া সম্ভব।
এ ছাড়া অপরিচিত নম্বরের কল নীরব রাখা এবং কে আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করতে পারবে, সেটিও এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সময় সময় এই সেটিংসগুলো পর্যালোচনা করলে ব্যক্তিগত তথ্য অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কমে।
২. প্রয়োজনীয় চ্যাটে ডিসাপিয়ারিং মেসেজ চালু রাখুন
সব পুরোনো কথোপকথন দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখার প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে ডিসাপিয়ারিং মেসেজ সুবিধাটি কাজে লাগতে পারে। এটি চালু করলে নির্দিষ্ট সময় পর নতুন বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চ্যাট থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা, ৭ দিন কিংবা ৯০ দিনের সময়সীমা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন ব্যক্তিগত চ্যাটের জন্য ডিফল্ট সময় নির্ধারণ করতে সেটিংসের প্রাইভেসি বিভাগে গিয়ে ডিফল্ট মেসেজ টাইমার পরিবর্তন করা যায়।
তবে এই সুবিধা ব্যবহারের পরও সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়। কোনো বার্তা অদৃশ্য হওয়ার আগেই প্রাপক সেটির স্ক্রিনশট নিতে বা অন্য কোনো উপায়ে সংরক্ষণ করতে পারেন।
৩. টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা বাড়াতে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ফোন নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পাশাপাশি এতে অতিরিক্ত একটি নিরাপত্তা স্তর যুক্ত হয়।
ফিচারটি চালু করতে সেটিংস থেকে অ্যাকাউন্ট এবং এরপর টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বিভাগে যেতে হবে। সেখানে ছয় সংখ্যার একটি পিন নির্ধারণ করা যায়। পিন ভুলে গেলে পুনরুদ্ধারের সুবিধার জন্য একটি ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত করে রাখাও ভালো।
এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে পাস-কী ব্যবহারের সুবিধাও দিয়েছে। ডিভাইস সমর্থন করলে এটিও নিরাপত্তা বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হতে পারে।
৪. অ্যাপ লক ও চ্যাট লক ব্যবহার করুন
ফোন কারও হাতে চলে গেলেও ব্যক্তিগত কথোপকথন সুরক্ষিত রাখতে অ্যাপ লক ব্যবহার করা যায়। হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি সেটিংস থেকে অ্যাপ লক চালু করলে আইফোনে ফেইস আইডি বা টাচ আইডি এবং অ্যান্ড্রয়েডে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে অ্যাপটি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
কোনো নির্দিষ্ট কথোপকথন আরও গোপন রাখতে চাইলে চ্যাট লক সুবিধাটিও ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে নির্বাচিত চ্যাট সাধারণ তালিকা থেকে সরিয়ে আলাদা সুরক্ষিত অংশে রাখা সম্ভব।
ফোনের লকস্ক্রিনে যেন বার্তার পুরো বিষয়বস্তু দেখা না যায়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। নোটিফিকেশন প্রিভিউ বন্ধ রাখলে ফোন লক থাকা অবস্থায় অন্য কেউ মেসেজ পড়ে ফেলার আশঙ্কা কমে।
৫. অ্যাডভান্সড প্রাইভেসি সেটিংস পর্যালোচনা করুন
আরও বাড়তি সুরক্ষার জন্য হোয়াটসঅ্যাপের অ্যাডভান্সড প্রাইভেসি বিভাগটিও দেখে নিতে পারেন। প্রাইভেসি সেটিংসের এই অংশে থাকা বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারকারীর তথ্য ও যোগাযোগকে আরও সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।
‘ব্লক আননোন মেসেজেস’ সুবিধা চালু করলে অপরিচিত উৎস থেকে আসা নির্দিষ্ট ধরনের বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে দেওয়া যায়। পাশাপাশি কলের সময় আইপি ঠিকানা প্রকাশের ঝুঁকি কমাতে ‘প্রটেক্ট ইউর আইপি অ্যাড্রেস ইন কলস’ সুবিধা ব্যবহার করা যায়। তবে এটি চালু করলে কলের মান কিছুটা কমে যেতে পারে।
হোয়াটসঅ্যাপ নিরাপদ রাখতে শুধু একটি সেটিংস চালু করাই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা অপশনগুলো পর্যালোচনা করার পাশাপাশি অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা, যাচাই ছাড়া কাউকে নিরাপত্তা কোড না দেওয়া এবং ফোনের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি / এডি / শাআ



















