ড্রাগন ফল খাওয়ার আগে জেনে নিন, যাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশঃ আগস্ট ২২, ২০২৬ সময়ঃ ৯:১৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:১৫ অপরাহ্ণ

রং, স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে ড্রাগন ফল এখন অনেকেরই পছন্দের ফল। ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ থাকায় স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে ফলটি। অনেকেই এর পুষ্টিগুণের কারণে ড্রাগন ফলকে ‘সুপার ফ্রুট’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

তবে পুষ্টিকর হলেও সবার শরীরে একইভাবে কোনো খাবার সহ্য নাও হতে পারে। ড্রাগন ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু মানুষের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে হজমের সমস্যা, কিডনিতে পাথরের প্রবণতা বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা থাকলে পরিমাণ ও খাওয়ার ধরন বিবেচনা করা জরুরি।

এ বিষয়ে দেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড বিডিএন পল্লবী ডায়াবেটিস সেন্টারের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান।

ড্রাগন ফলের উপকারিতা

পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহানের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

ফলটিতে থাকা আয়রন রক্ত তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে ভূমিকা রাখে। ফলে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরাও এটি খেতে পারেন।

অন্যদিকে, ড্রাগন ফলের খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক। পাশাপাশি ত্বক ও চুলের সুস্থতা বজায় রাখতেও এর বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ভূমিকা রাখতে পারে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খাদ্যতালিকায় ড্রাগন ফল রাখতে পারেন।

যাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন

হজমের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের খালি পেটে ড্রাগন ফল না খাওয়াই ভালো বলে পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ। কারণ কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরও ফলটি পরিমিত খাওয়া উচিত। ড্রাগন ফলে কিছু পরিমাণ অক্সালেট রয়েছে, যা নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারীদের নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। একইভাবে, খাওয়ার পর পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, চুলকানি বা অ্যালার্জির মতো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

দিনে কতটা ড্রাগন ফল খাওয়া যায়

পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ড্রাগন ফল যথেষ্ট হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৭৫ গ্রাম রাখা যেতে পারে।

যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তারা খালি পেটে ফলটি না খেয়ে দই কিংবা অন্য কোনো খাবারের সঙ্গে খেতে পারেন। এতে অনেকের ক্ষেত্রে পেটে অস্বস্তির সম্ভাবনা কমতে পারে।

তবে ড্রাগন ফল কোনো রোগের চিকিৎসা নয়। নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে নিজের মতো করে খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করাই নিরাপদ।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G