বরকলের বরুনাছড়িতে ফলের বাগানে অতিথি বন্য হাতির পাল
রাঙামাটির বরকল উপজেলার বরুনাছড়িতে মানুষের ফলের বাগানে নিয়মিত দেখা মিলছে এশিয়ান বন্য হাতির। খাবারের সহজলভ্যতা ও কাছেই কাপ্তাই হ্রদের পানি থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় হাতির বিচরণ রয়েছে।
বরুনাছড়ির বিভিন্ন বাগানে আম, লিচু ও আমলকিসহ নানা ধরনের গাছ রয়েছে। এসব বাগানের ফল, পাতা ও গাছপালা হাতির অন্যতম খাবার। সাম্প্রতিক সময়ে একটি লিচুবাগানেও কয়েকটি হাতিকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। তারা বাগানের লতাপাতা খাওয়ার পাশাপাশি লিচুগাছের ডাল ও আশপাশের বাঁশপাতাও খাচ্ছে। প্রয়োজন হলে কাছের কাপ্তাই হ্রদ থেকে পানি পান করছে হাতিগুলো।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরুনাছড়িতে প্রায় ১০ থেকে ১২টি বন্য হাতির বিচরণ রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে এসব হাতির এক ধরনের সহাবস্থানও তৈরি হয়েছে। হাতির কারণে বাগান বা ঘরবাড়ির ক্ষতি হলেও স্থানীয়রা সাধারণত তাদের আক্রমণ না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। টর্চের আলো কিংবা শব্দ করে হাতিকে দূরে রাখার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বরকল ও লংগদু এলাকায় বন্য হাতির চলাচল নতুন নয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পাহাড়ে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে হাতি কখনো কখনো মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে আসে। তবে বরকলের বনাঞ্চল এবং কাপ্তাই হ্রদের পানির সহজলভ্যতার কারণে এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই হাতির বিচরণ রয়েছে।
মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ বরকল ও লংগদু এলাকায় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করেছে। হাতির অবস্থান সম্পর্কে স্থানীয়দের সতর্ক করা এবং হাতির কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করাই এই দলের অন্যতম কাজ। স্থানীয়দেরও হাতির চলাচলের সময় সতর্ক থাকতে এবং প্রাণীগুলোকে উত্ত্যক্ত বা আক্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বরুনাছড়ির এই চিত্রে একদিকে যেমন পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্য হাতির বিচরণের বিষয়টি উঠে আসে, অন্যদিকে মানুষের বাগান ও বসতির কাছাকাছি বন্যপ্রাণীর উপস্থিতির কারণে সহাবস্থানের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসে। খাবার ও পানির সন্ধানে হাতিগুলো যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের ক্ষয়ক্ষতিও কমানো যায়, সে বিষয়টিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতি / এডি / শাআ























