সব নাগরিকের জন্য চালু হচ্ছে ‘এক-আইডি’ ব্যবস্থা

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ সময়ঃ ৯:০৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:০৬ অপরাহ্ণ

দেশের নাগরিকদের জন্য একক ও স্থায়ী পরিচয়পত্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’ নামের এই পরিচয়পত্র জন্মের পরপরই দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এই একক পরিচয় ব্যবহার করা হবে।

এ জন্য ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ বা ডি-স্টার নামে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করেছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদনের জন্য এর প্রস্তাব ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে দেশে জন্মের পর শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। ১৮ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকরা জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি পান। নতুন ব্যবস্থায় বয়সভেদে আলাদা পরিচয়ের বদলে জন্মের পর থেকেই প্রত্যেক নাগরিককে একটি স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মতে, এক-আইডি চালু হলে সরকারি সেবা নিতে একই ব্যক্তিকে বারবার নিজের পরিচয় ও তথ্য জমা দিতে হবে না। ধীরে ধীরে প্রচলিত বিভিন্ন কার্ডের পরিবর্তে একটি পরিচয়পত্রের মাধ্যমেই একাধিক সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। এনআইডি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন কার্ডের সেবাও ভবিষ্যতে এই পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জনশুমারির তথ্য বিবেচনায় নিয়ে প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কার্ড তৈরি ও মুদ্রণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ২০ কোটি।

প্রস্তাবে প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড তৈরি ও মুদ্রণের জন্য ২ মার্কিন ডলার ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে প্রতিটি কার্ড বিতরণ ও সরবরাহের জন্য আরও ১ ডলার খরচ ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে একটি কার্ড তৈরি থেকে নাগরিকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত আনুমানিক ব্যয় হতে পারে ৩৬৯ টাকা।

পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের অংশ যাবে কার্ড তৈরি ও মুদ্রণ, নাগরিকদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং কার্ড বিতরণের কাজে। এসব খাতে মোট প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে।

বর্তমানে একজন নাগরিকের পরিচয় ও সেবা-সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন সরকারি ব্যবস্থায় আলাদাভাবে সংরক্ষিত থাকে। এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনের মতো বিভিন্ন পরিচয়পত্র ও নম্বর রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকদের কাছ থেকে একই তথ্য বারবার নেওয়ার প্রয়োজন কমে আসবে। এতে সরকারি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের ভোগান্তিও কমতে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G