গ্যাসের তীব্র সংকটে বিকল্প চুলাতেই রান্না সারছেন নগরবাসী

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ সময়ঃ ৯:০৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:০৫ অপরাহ্ণ

গ্যাস সরবরাহে সংকট ও স্বল্পচাপের কারণে রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন অনেক মানুষ। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় লাকড়ি ও অন্যান্য জ্বালানিতে ব্যবহারের উপযোগী চুলার চাহিদা বেড়েছে। বাড়তি চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব চুলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগরেরাও।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। কোথাও দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় বাসাবাড়িতে রান্নার সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আবার কোথাও দিনের বড় একটি সময় চুলায় পর্যাপ্ত চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। জেলার ৮১ হাজারের মতো তিতাস গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পতায় ভুগছেন বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার রান্নার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে লাকড়ির চুলা ব্যবহার শুরু করেছে। ফলে আগে তুলনামূলক কম চাহিদার এই চুলা এখন বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতেও ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকটের কারণে লাকড়ির চুলার বিক্রি বাড়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।

নারায়ণগঞ্জের নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকায় দেখা গেছে, মাটির পরিবর্তে সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে রান্নার চুলা। প্রথমে নির্দিষ্ট ছাঁচে মিশ্রণ ঢেলে চুলার আকৃতি দেওয়া হয়। পরে সেগুলো শুকিয়ে রং করা হয়। বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করতে তৈরি চুলাগুলো ঢেকে রাখা হয়।

কারিগরদের ব্যস্ততাও চোখে পড়ার মতো। একজন দক্ষ কারিগর দিনে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি চুলা তৈরি করতে পারেন। আকার ও ধরন অনুযায়ী এসব চুলার পাইকারি দাম ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। তৈরি হওয়ার পর সেগুলো নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন বাজারেও পাঠানো হয়।

এর আগে গ্যাস সংকটের সময় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সিমেন্ট, বালু ও রডের তৈরি লাকড়ির চুলার চাহিদা বাড়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। তখন বিক্রেতারা জানিয়েছিলেন, সংকটের আগে এসব চুলার বিক্রি তুলনামূলক কম থাকলেও গ্যাসের সমস্যা বাড়ার পর ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়ে যায়। আকার ও ধরনভেদে তখন ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের চুলা বিক্রি হয়েছে।

শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কাঠ বা অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারের চুলার চাহিদা বাড়ার নজির রয়েছে। কোথাও সিমেন্ট-বালুর তৈরি চুলা কয়েক গুণ বেশি বিক্রি হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

এদিকে গ্যাস সংকট শুধু রান্নার চুলাতেই প্রভাব ফেলছে না। সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বেশ কিছু সিএনজি স্টেশনও বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ফলে আবাসিক গ্রাহকের পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে।

তবে গ্যাস সংকটের কারণে বিকল্প চুলার ব্যবহার বাড়লেও এর সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের ভেতরে লাকড়ি বা অন্য কোনো জ্বালানি পোড়ালে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলে ধোঁয়া ও ক্ষতিকর কণার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের চুলা ব্যবহার করলে রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিকল্প চুলার এই বাড়তি চাহিদা আবার কমে যেতে পারে। কিন্তু বর্তমান সংকটে অনেক পরিবারের জন্য এসব চুলা রান্না চালিয়ে যাওয়ার একটি তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে উঠেছে। আর সেই প্রয়োজন মেটাতেই নারায়ণগঞ্জের কারিগরদের ব্যস্ততা এখন বেড়েছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G