নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পানে মিলতে পারে যে ৭ উপকার

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ সময়ঃ ৯:১২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:১২ অপরাহ্ণ

দুধ, চিনি বা ক্রিম মেশানো কফির বদলে শুধু কফি পান করার অভ্যাস অনেকের কাছেই শুরুতে কঠিন মনে হতে পারে। স্বাদে তীব্র পার্থক্যের কারণে প্রথম দিকে ব্ল্যাক কফি পছন্দ নাও হতে পারে। তবে ক্যাফেইনের প্রভাবের পাশাপাশি কফিতে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের কারণে পরিমিত ব্ল্যাক কফি পান করার কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত সুবিধার কথাও গবেষণায় উঠে এসেছে।

বিশেষ করে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ এবং লিভারের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্ভাব্য ইতিবাচক সম্পর্কের কারণে ব্ল্যাক কফি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তবে এসব সুবিধা পেতে অতিরিক্ত কফি পান করার প্রয়োজন নেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্ল্যাক কফির সম্ভাব্য সাতটি উপকারিতা।

১. ক্যালোরি খুবই কম

সাধারণভাবে এক কাপ ব্ল্যাক কফিতে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম, প্রায় ২ থেকে ৪ ক্যালোরির মধ্যে থাকে। কিন্তু এতে দুধ, ক্রিম, চিনি কিংবা বিভিন্ন স্বাদের সিরাপ যোগ করলে ক্যালোরির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত ক্যালোরি ও চিনি এড়িয়ে কফি পান করতে চাইলে ব্ল্যাক কফি তুলনামূলক সহজ একটি বিকল্প হতে পারে।

২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

কফির বীজে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণেই কফির সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আলোচনায় শুধু ক্যাফেইন নয়, এর অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানও গুরুত্ব পায়।

৩. লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে

কফি পান এবং লিভারের স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে লিভারের নির্দিষ্ট কিছু রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

সিডার্স-সিনাইয়ের ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় যুক্তরাজ্যের বায়োব্যাংকের ৩ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের গড়ে প্রায় ১৩ বছর পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। গবেষণাটিতে প্রতিদিন পাঁচ বা তার বেশি কাপ কফি পানকারীদের সিরোসিসের ঝুঁকি ৩২ শতাংশ, লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি ৪৭ শতাংশ এবং লিভার-সম্পর্কিত মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কম থাকার কথা উঠে এসেছে, কফি না পানকারীদের তুলনায়।

তবে এসব ফলাফল কফিকে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেয় না। কফির পরিমাণও ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ক্যাফেইন সহনশীলতার ওপর নির্ভর করে।

৪. গেঁটেবাতের ঝুঁকি কমার সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে

কফি পান এবং ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রার মধ্যে সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কফি পানকারীদের হাইপারইউরিসেমিয়া ও গেঁটেবাতের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে।

২০২৫ সালে ‘নিউট্রিশন রিসার্চ অ্যান্ড প্র্যাকটিস’-এ প্রকাশিত একটি পর্যালোচনাতেও কফি পান ও গেঁটেবাতের কম ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গেঁটেবাতের চিকিৎসা হিসেবে কফিকে কোনোভাবেই নির্ধারিত ওষুধের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

৫. শরীরচর্চার আগে বাড়াতে পারে সতর্কতা ও কর্মক্ষমতা

ব্যায়ামের আগে ব্ল্যাক কফি পান করেন এমন অনেকেই শরীরে বাড়তি উদ্যম অনুভব করেন। এর অন্যতম কারণ ক্যাফেইন। পরিমিত ক্যাফেইন গ্রহণ সাময়িকভাবে সতর্কতা বাড়াতে এবং শারীরিক কর্মক্ষমতায় সহায়তা করতে পারে। এ কারণেই শরীরচর্চার আগে কফি পান করার অভ্যাস অনেকের মধ্যে জনপ্রিয়।

৬. বিপাকক্রিয়ায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে

ওজন নিয়ন্ত্রণের আলোচনায় ব্ল্যাক কফির নাম প্রায়ই আসে। এর কারণ ক্যাফেইন শরীরের বিপাকীয় হার সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়াতে পারে। তবে এই প্রভাব সীমিত এবং শুধু কফি পান করলেই ওজন কমে যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

৭. কফির স্বাভাবিক স্বাদ বোঝার সুযোগ দেয়

ব্ল্যাক কফির স্বাদ প্রথম দিকে অনেকের কাছে তেতো ও তীব্র মনে হতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে এতে অভ্যস্ত হলে কফির বীজের নিজস্ব ঘ্রাণ, স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য আলাদা করে বোঝা সহজ হয়।

যারা নতুন করে ব্ল্যাক কফি খেতে চান, তারা তুলনামূলক হালকা রোস্ট দিয়ে শুরু করতে পারেন। ফ্রেঞ্চ প্রেস, মোকা পট কিংবা ঠান্ডা পদ্ধতিতে তৈরি কফিও স্বাদের তীব্রতা কিছুটা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে। ফলে ধীরে ধীরে দুধ-চিনি ছাড়া কফির স্বাদে অভ্যস্ত হওয়া সহজ হতে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G