ঘুম থেকে ওঠার কতক্ষণ পর প্রাতরাশ করবেন, জেনে নিন আদর্শ সময়
ঘুম থেকে ওঠার পর কতক্ষণ অপেক্ষা করে প্রাতরাশ করা উচিত, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা রয়েছে। কেউ ঘুম থেকে উঠেই সকালের খাবার খান, আবার কারও ক্ষেত্রে নানা কাজে ব্যস্ততার কারণে জলখাবার খেতে বেশ দেরি হয়ে যায়। তাহলে সুস্থ থাকতে প্রাতরাশের আদর্শ সময় কোনটি?
পুষ্টিবিদদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর ঠিক কত মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে প্রাতরাশ করতেই হবে, এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। ব্যক্তির ক্ষুধা, দৈনন্দিন রুটিন এবং হজমের ধরন অনুযায়ী খাবারের সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর ক্ষুধা লাগলে তখনই খাওয়া যেতে পারে। আবার কারও যদি কিছুক্ষণ পর ক্ষুধা লাগে, তাহলে অপেক্ষা করেও প্রাতরাশ করা সম্ভব।
অনেকের আবার সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই খাবার খেতে ভালো লাগে না। পেট ভার লাগা বা ক্ষুধা না থাকার মতো অনুভূতি থাকলে জোর করে খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছুটা সময় পরে ক্ষুধা এলে তখন প্রাতরাশ করা যেতে পারে।
পুষ্টিবিদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, প্রাতরাশ ও দুপুরের খাবারের মধ্যে খুব বেশি বা খুব কম ব্যবধান না রাখা। সকালের খাবারের পর দুপুরের খাবার পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টার মতো বিরতি থাকলে দৈনিক খাবারের রুটিন সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা সহজ হয়।
ঘুম থেকে উঠে কী করবেন?
রাতের দীর্ঘ সময় ঘুমের কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো অভ্যাস। সাধারণ পানি পান করাই যথেষ্ট। কারও পছন্দ হলে স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানিও পান করতে পারেন।
তবে লেবু-মধুর পানি, ভেজানো চিয়া বা তিসির পানি, মৌরির পানি কিংবা অন্য কোনো বিশেষ পানীয় খেতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। এগুলো কেউ পছন্দ অনুযায়ী খেতে পারেন, তবে স্বাস্থ্যকর দিনের শুরু করার জন্য সাধারণ পানিও যথেষ্ট।
সকালে ক্ষুধা থাকলে কয়েকটি বাদাম বা অন্য কোনো হালকা খাবার খাওয়া যেতে পারে। এরপর নিজের ক্ষুধা ও দৈনন্দিন সময়সূচি অনুযায়ী মূল প্রাতরাশ করা সম্ভব।
বেশি দেরিতে প্রাতরাশের সমস্যা
সকালে অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকার পর অতিরিক্ত ক্ষুধা তৈরি হলে একসঙ্গে বেশি খাবার খেয়ে ফেলার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু নির্দিষ্ট সময় মেনে খাওয়ার চেয়ে ক্ষুধার মাত্রা ও পরবর্তী খাবারের সময়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাতরাশে শুধু পেট ভরানোর দিকে নজর না দিয়ে খাবারের পুষ্টিগুণের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দিনের প্রথম খাবারে শর্করা, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও খনিজের সমন্বয় থাকলে তা তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ খাবার হতে পারে।
ডিম, দুধ বা দই, ডাল, মাছ বা অন্য কোনো প্রোটিনের উৎসের সঙ্গে শস্যজাতীয় খাবার, শাকসবজি কিংবা ফল রাখা যেতে পারে। তবে খাবারের পরিমাণ এমন হওয়া উচিত, যাতে দুপুরের খাবারের সময় ক্ষুধা একেবারে নষ্ট হয়ে না যায়।
সকাল ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে খাওয়া কি ভালো?
অনেকের দৈনন্দিন রুটিনের ক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে প্রাতরাশ করা সুবিধাজনক হতে পারে। তবে এটিকে সবার জন্য বাধ্যতামূলক সময় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কে কখন ঘুম থেকে উঠছেন, রাতে কখন খাবার খাচ্ছেন এবং দুপুরের খাবারের সময় কখন, এসব বিষয়ও সকালের খাবারের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দিনের খাবারের মধ্যে যুক্তিসংগত ব্যবধান রাখা এবং দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত না থাকা। একই সঙ্গে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় পুষ্টিকর খাবার রাখাও জরুরি।
অর্থাৎ, ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই প্রাতরাশ করতে হবে, এমন কোনো সার্বজনীন নিয়ম নেই। শরীরের ক্ষুধার সংকেত ও নিজের দৈনন্দিন রুটিন বুঝে উপযুক্ত সময়ে সকালের খাবার খাওয়াই বেশি বাস্তবসম্মত।
প্রতি / এডি / শাআ



















