বিশ্বের সবচেয়ে সরু গাড়ি, অনায়াসে ঢুকবে শোবার ঘরেও
গাড়ি সাধারণত রাখার জন্য গ্যারেজ বা নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এমন একটি গাড়ি তৈরি করা হয়েছে, যেটি চাইলে শোবার ঘরের ভেতরেও ঢুকিয়ে রাখা সম্ভব। চার চাকার এই গাড়িটির প্রস্থ মাত্র ৫০ দশমিক ২ সেন্টিমিটার, যা প্রায় ১ ফুট ৮ ইঞ্চির সমান। আকারে এটি ঘরে বা অফিসে ব্যবহৃত একটি সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ার থেকেও সরু। তবে প্রস্থ কম হলেও গাড়িটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ ফুট।
এই ব্যতিক্রমী গাড়ি তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠিয়েছেন ইতালির গাড়ি মেকানিক আন্দ্রেয়া মারাজ্জি। পুরোনো একটি ফিয়াট পান্ডাকে পরিবর্তন করেই তিনি তৈরি করেছেন গাড়িটি। এর নাম রাখা হয়েছে ‘পান্ডা পার উনো’, যার অর্থ ‘একজনের জন্য পান্ডা’।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এমন গাড়ি তৈরির চিন্তা মারাজ্জির মাথায় আসে ২০২৪ সালে। তাঁর পরিবারের পুরোনো গাড়ি ভাঙা ও সেখান থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহের ব্যবসা রয়েছে। সেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ১৯৯৩ সালের একটি পুরোনো ফিয়াট পান্ডা আসে, যেটি আর ব্যবহারযোগ্য না থাকায় ভাঙার কথা ছিল।
তবে গাড়িটি বাতিল না করে ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনা করেন মারাজ্জি। ইতালির ঐতিহাসিক শহরগুলোর সরু রাস্তায় চলাচলের জন্য ফিয়াট পান্ডা বেশ পরিচিত। পাশাপাশি ইতালির পান্দিনো শহরে প্রতিবছর ফিয়াট পান্ডাকে ঘিরে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। গাড়িপ্রেমীদের সামনে ব্যতিক্রমী কিছু উপস্থাপনের লক্ষ্যেই পুরোনো পান্ডাটিকে বিশ্বের সবচেয়ে সরু গাড়িতে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি।
গাড়ি তৈরির কাজ শুরু হলে প্রথমে এর দরজা এবং দুই পাশের বডি প্যানেল খুলে নেওয়া হয়। এরপর গাড়ির মাঝের কাঠামো কেটে দুই পাশের অংশকে কাছাকাছি এনে আবার জোড়া লাগানো হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দুই পাশের কাঠামো নিখুঁতভাবে সমান রাখা। সামান্য ভারসাম্যহীনতাও গাড়িটির কাঠামোগত স্থিতিশীলতায় সমস্যা তৈরি করতে পারত।
পরে গাড়িটির বনেট, ছাদ ও পেছনের দরজার জন্য নতুন করে বডি এবং জানালা তৈরি করেন মারাজ্জি। পুরোনো গাড়ির বেশির ভাগ অংশই অবশ্য রাখা হয়েছে। ‘পান্ডা পার উনো’র প্রায় ৯০ শতাংশ উপকরণ এসেছে সেই ১৯৯৩ সালের ফিয়াট পান্ডা থেকেই।
গাড়িটি শুধু প্রদর্শনের জন্য তৈরি করা হয়নি, রাস্তায় চালিয়েও দেখেছেন এর নির্মাতা। এতে ছোট আকারের একটি বৈদ্যুতিক মোটর ও ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। সরু কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে স্টিয়ারিংয়ের আকারও ছোট করা হয়েছে। হেডলাইট ও দিকনির্দেশক বাতিগুলোও কার্যকর রয়েছে।
তবে আকারে চমকপ্রদ হলেও গাড়িটির গতি খুব বেশি নয়। সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে এটি। সরু কাঠামোর কারণে বাঁক নেওয়ার সময়ও গাড়িটির স্থিতিশীলতা সীমিত। ফলে দ্রুতগতিতে চলাচলের জন্য নয়, বরং ব্যতিক্রমী নকশা ও রেকর্ড গড়ার উদ্দেশ্যেই তৈরি এই গাড়ি।
প্রতি / এডি / শাআ



















