বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন
হঠাৎ বুকে ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি শুরু হলে সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে বসে থাকা ঠিক নয়। এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে, তবে কখনো কখনো এটি হার্ট অ্যাটাকসহ গুরুতর হৃদ্রোগের সতর্কসংকেতও হতে পারে। বিশেষ করে বুকের অস্বস্তির সঙ্গে শ্বাস নিতে কষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পেটের দিকে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
যাদের আগে থেকেই হৃদ্রোগের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এমন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা আগে থেকে জানা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় হঠাৎ বুকব্যথা শুরু হলে কী করবেন?
দ্রুত কারও সঙ্গে যোগাযোগ করুন
বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়ার পর প্রথম কাজ হওয়া উচিত কাছাকাছি থাকা কোনো আত্মীয়, প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তিকে ফোন করা। এমন কাউকে জানান, যিনি দ্রুত আপনার কাছে পৌঁছাতে পারবেন।
একই সঙ্গে জরুরি চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগ করে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করুন। হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থাকলে নিজের গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা না করাই নিরাপদ। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সহায়তা দিতে দিতে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে পারেন।
ব্যথা বা চাপ কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে, অথবা কিছুক্ষণ কমে আবার ফিরে এলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
দরজা খোলা রাখুন, তবে অযথা নড়াচড়া নয়
একা থাকলে সাহায্য আসার আগে সম্ভব হলে ঘরের দরজা খুলে বা এমনভাবে রেখে দিতে পারেন, যাতে চিকিৎসাকর্মী বা পরিচিত কেউ সহজে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন।
তবে এর জন্য সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা, বাইরে বের হওয়া বা অপ্রয়োজনীয় হাঁটাচলা করা ঠিক নয়। শরীরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা বুকের অস্বস্তি থাকলে যেখানে নিরাপদ বোধ করছেন, সেখানেই থেকে সাহায্যের অপেক্ষা করুন।
নিরাপদভাবে বসুন বা শুয়ে থাকুন
বুকব্যথার সঙ্গে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অস্বস্তি থাকলে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নিরাপদ জায়গায় বসে বা প্রয়োজন হলে শুয়ে থাকুন।
এ অবস্থায় নিজে থেকে ঘরের মধ্যে ঘোরাঘুরি করে ব্যথার কারণ খোঁজা বা কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত নয়। বুকে ব্যথার কারণ হৃদ্রোগ নাকি অন্য কোনো সমস্যা, তা শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত হওয়া সবসময় সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি।
অ্যাসপিরিন নেওয়া যাবে কি?
হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহে অ্যাসপিরিন কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে এটি সবার জন্য নিরাপদ নয়।
প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির অজানা কারণে বুকব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগের পর, ব্যক্তি সচেতন থাকলে এবং অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি না থাকলে ১৬২ থেকে ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা নির্দেশনায় রয়েছে।
তবে চিকিৎসক যদি আগে থেকেই অ্যাসপিরিন এড়িয়ে চলতে বলে থাকেন, সেটি নেওয়া উচিত নয়। রক্তপাতের ঝুঁকি বা অন্য কোনো কারণে অ্যাসপিরিন নেওয়া নিরাপদ কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও জরুরি চিকিৎসাকর্মীর পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অ্যাসপিরিন খাওয়ার জন্য কখনোই অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা বা হাসপাতালে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্ব করা যাবে না।
কোন লক্ষণে বেশি সতর্ক হবেন
সব বুকব্যথা হার্ট অ্যাটাকের কারণে হয় না। আবার হার্ট অ্যাটাক হলেও সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায় না।
বুকের ব্যথা বা চাপের সঙ্গে নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন:
- শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে সমস্যা
- ঠান্ডা ঘাম
- বমি বমি ভাব বা বমি
- মাথা ঘোরা বা দুর্বল হয়ে পড়া
- ব্যথা বা অস্বস্তি হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া
- পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি বা ব্যথা
নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে হৃদ্রোগের লক্ষণ কখনো কখনো প্রচলিত বুকব্যথার মতো স্পষ্ট নাও হতে পারে। তাই উপসর্গ অস্বাভাবিক মনে হলেও তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
‘দেখি ঠিক হয় কি না’ বলে অপেক্ষা করবেন না
হঠাৎ বুকব্যথা শুরু হলে একা থাকার কারণে ভয় বা দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যথা নিজে থেকেই চলে যাবে কি না, তা দেখার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ করে বুকের চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা শরীরের অন্য অংশে ব্যথা থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।
বাড়িতে একা থাকার সময় এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো দ্রুত সাহায্য চাওয়া, নিরাপদ অবস্থানে থাকা এবং নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা না করা। বুকব্যথার প্রকৃত কারণ চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা যায় না।
প্রতি / এডি / শাআ



















