হ্রদের পানি শুকাতেই মিলল ১৫০০ বছরের পুরনো বিশাল স্থাপনা

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ সময়ঃ ৯:০২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:০৩ অপরাহ্ণ

জলবায়ুর পরিবর্তন ও দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নদী, হ্রদ ও জলাধারের পানির স্তর দ্রুত কমছে। কোথাও কোথাও বছরের পর বছর পানির নিচে থাকা স্থাপনাও এ কারণে আবার দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। তুরস্কের ইজনিক হ্রদে ঘটেছে তেমনই এক ঘটনা।

হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় শত শত বছর ধরে পানির নিচে থাকা একটি প্রাচীন ব্যাসিলিকা এখন হ্রদের তলদেশ থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। একসময় যার অবস্থান জানতে পানির নিচে ডুব দিতে হতো, সেটিই এখন অনেকটা প্রকাশ্য স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।

ইজনিক হ্রদের তলায় থাকা এই স্থাপনাটির সন্ধান অবশ্য নতুন নয়। কয়েক বছর আগে একজন বিশেষজ্ঞ পানির নিচে অনুসন্ধান চালিয়ে এর অস্তিত্ব শনাক্ত করেছিলেন। তবে পানির নিচে থাকার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে স্থাপনাটি এতদিন ছিল মূলত অদৃশ্য।

সম্প্রতি হ্রদের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। হ্রদের বিস্তীর্ণ অংশের পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তলদেশে থাকা বিভিন্ন নিদর্শনও চোখে পড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করেছে প্রাচীন ব্যাসিলিকাটি।

সেন্ট নিওফিটোসের নামে স্থাপনাটি

প্রাচীন এই ব্যাসিলিকাটি সেন্ট নিওফিটোসের নামে নির্মিত বলে জানা যায়। রোমান আমলে ব্যাসিলিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ ধরনের একটি স্থাপনা। সাধারণ মানুষের সমাবেশ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং প্রশাসনিক বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য এসব ভবন ব্যবহৃত হতো। অনেক ব্যাসিলিকার ভেতরে বিভিন্ন ধরনের কার্যালয়ও থাকত।

ইজনিক হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ার পর ব্যাসিলিকাটির কাঠামোর বড় একটি অংশ এখন পানির ওপর উঠে এসেছে। ফলে আগে যেখানে স্থাপনাটিকে দেখতে পানির নিচে যেতে হতো, এখন সেখানে সরাসরি পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রাচীন স্থাপনাটি এভাবে দৃশ্যমান হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও কৌতূহলী দর্শনার্থীদের অনেকে সেটি দেখতে সেখানে ভিড় করছেন। কেউ কেউ হ্রদের শুকিয়ে যাওয়া অংশ দিয়ে হেঁটে প্রাচীন স্থাপনাটির কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারছেন।

৫০ মিটার পর্যন্ত নেমেছে পানির স্তর

ইজনিক হ্রদের পানির স্তর প্রায় ৫০ মিটার পর্যন্ত কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এত বড় মাত্রায় পানির স্তর কমে যাওয়াকে শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখার সুযোগ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বরং এটি ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তুরস্কের ইজনিক হ্রদের আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় বর্তমানে খরার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো কারণ পানির সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে অনেক নদী ও হ্রদের পানির স্তর কমে যাচ্ছে। এমনকি ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী দানিউবের কিছু অংশেও পানির স্তর কমে যাওয়ায় তলদেশে থাকা বিভিন্ন পুরোনো নিদর্শন দৃশ্যমান হয়েছে।

ইজনিক হ্রদের ব্যাসিলিকাটির সামনে আসাও তাই একদিকে যেমন প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে, অন্যদিকে তা জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসংকটের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরছে। যে স্থাপনা শত শত বছর ধরে পানির নিচে ছিল, হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় সেটিই এখন মানুষের চোখের সামনে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

20G