২০৩০ সালে একই বছরে দুবার রমজান, কেন ঘটবে এমন বিরল ঘটনা

প্রকাশঃ অক্টোবর ৩, ২০২৬ সময়ঃ ৫:৩১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৫:৩১ অপরাহ্ণ

একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার পবিত্র রমজান মাস পাওয়ার বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে ২০৩০ সালে। ওই বছর জানুয়ারি ও ডিসেম্বর, দুই সময়েই রমজান মাস পড়বে। ফলে মুসলিমদের একই বছরে দুই দফায় রোজা পালন করতে হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির মধ্যে দিনের সংখ্যার পার্থক্যই এই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির মূল কারণ। ইসলামি বর্ষপঞ্জি চান্দ্রভিত্তিক হওয়ায় একটি বছর গ্রেগরিয়ান বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দিন ছোট। ফলে প্রতিবছর রমজান আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে শুরু হয়।

এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলেই ২০৩০ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যে রমজান দুইবার অবস্থান করবে। হিসাব অনুযায়ী, বছরের প্রথম রমজান শুরু হওয়ার কথা ৫ জানুয়ারি। এটি হবে ১৪৫১ হিজরি সালের রমজান। এরপর বছরের শেষদিকে ২৬ ডিসেম্বর আবার রমজান শুরু হবে, যা পড়বে ১৪৫২ হিজরি সনের মধ্যে।

অর্থাৎ ২০৩০ সালে মুসলিমদের মোট ৩৬ দিন রোজা রাখতে হবে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে প্রায় পুরো ৩০ দিন এবং ডিসেম্বরের শেষ দিকে আরও ৬ দিন রোজা পড়বে।

কেন একই বছরে দুই রমজান?

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসাব করা হয় সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর একবার পরিক্রমণের সময়ের ভিত্তিতে। অন্যদিকে ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির ভিত্তি হলো চাঁদের বিভিন্ন পর্যায়।

একটি ইসলামি চান্দ্র বছর সাধারণত ৩৫৪ দিনের। অর্থাৎ সৌরবর্ষের তুলনায় এটি প্রায় ১১ দিন কম। এই ব্যবধানের কারণে প্রতি বছর ইসলামি মাসগুলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে কিছুটা করে পিছিয়ে আসে।

এভাবেই রমজান কখনো গ্রীষ্মে, কখনো বর্ষায়, আবার কখনো শীতকালে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিবর্তনের ধারাটি চলতে থাকলে প্রায় ৩৩ বছর পর ইসলামি মাসগুলোর অবস্থান অনেকটাই আগের পর্যায়ে ফিরে আসে। আর সেই চক্রের একটি পর্যায়েই একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এর আগে কবে এমন হয়েছিল?

একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান পড়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। সর্বশেষ এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল ১৯৯৭ সালে। ২০৩০ সালের পর আবার একই ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে ২০৬৩ সালে।

রোজার সময়েও থাকবে পার্থক্য

রমজান বছরের কোন সময়ে পড়ছে, তার ওপর রোজার দৈর্ঘ্যও অনেকটা নির্ভর করে। শীতকালে দিনের সময় তুলনামূলক কম হওয়ায় রোজার সময়ও সাধারণত কম হয়। বিপরীতে গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি থাকায় রোজার সময় ১৭ ঘণ্টারও বেশি হতে পারে।

তবে ২০৩০ সালের রমজানের সুনির্দিষ্ট শুরু ও শেষের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব থেকে সম্ভাব্য তারিখ আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব হলেও অনেক মুসলিম দেশে নতুন চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই রমজান শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

সৌদি আরবসহ বেশ কিছু দেশে প্রচলিত চাঁদ দেখার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আবার কিছু দেশ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে রমজানের তারিখ নির্ধারণ করে থাকে। ফলে বিভিন্ন দেশে রমজান শুরুর তারিখে এক দিনের মতো পার্থক্যও দেখা যেতে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G