বিলুপ্ত হওয়া ম্যামথ ফিরছে পৃথিবীতে, ২০৩০ সালেই দেখা মিলবে
বরফে ঢাকা প্রাচীন পৃথিবীতে একসময় দাপিয়ে বেড়াত বিশালদেহী লোমশ হাতি ম্যামথ। দীর্ঘ দাঁত, পুরু শরীর আর ঘন লোমে ঢাকা এই প্রাণী ছিল তীব্র শীতের পরিবেশে টিকে থাকার জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত। কিন্তু হাজার হাজার বছর আগে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায় এই প্রাণী।
বিলুপ্ত সেই ম্যামথকে আবার পৃথিবীর বুকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাণীটির বিলুপ্তি কাটিয়ে নতুন করে জন্ম দেওয়ার এই উদ্যোগে আধুনিক জিনপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জীবপ্রযুক্তিকে একসঙ্গে কাজে লাগানো হচ্ছে।
ম্যামথ পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনায় বিজ্ঞানীদের প্রধান ভরসা এশিয়াটিক হাতি। কারণ বর্তমান সময়ে জীবিত হাতিদের মধ্যে এশিয়াটিক এলিফ্যান্টের সঙ্গে ম্যামথের জিনগত ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের বেশ কিছু মিল রয়েছে। সেই মিলকে কাজে লাগিয়েই নতুন ধরনের প্রাণী তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কীভাবে ফিরবে ম্যামথ?
ম্যামথ তৈরির এই প্রকল্পে এশিয়াটিক হাতির জিনগত কাঠামোয় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। জিন এডিটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে হাতির ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশে পরিবর্তন এনে ম্যামথের বৈশিষ্ট্য তৈরি করার চেষ্টা করবেন গবেষকরা।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, ম্যামথের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে এশিয়াটিক হাতির জিনে প্রায় ১৫০ ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। এর মাধ্যমে পুরু লোম, ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা এবং ম্যামথের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
এই প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। এআই ব্যবহার করে জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২০২৮ সালেই কি জন্ম নেবে ম্যামথ?
ম্যামথ ফিরিয়ে আনার এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে কাজ করছে জীবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোলোসাল বায়োসায়েন্সেস। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যেই ম্যামথের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রথম শাবকের জন্ম দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে জন্ম দেওয়াই এই প্রকল্পের শেষ ধাপ নয়। গবেষকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নতুন তৈরি প্রাণীকে উপযুক্ত পরিবেশে বাঁচিয়ে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের টিকে থাকার ব্যবস্থা করা।
২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীতে দেখা মিলবে?
গবেষকদের পরিকল্পনা সফল হলে ২০৩০ সালের মধ্যেই ম্যামথের মতো প্রাণীকে পৃথিবীর শীতল অঞ্চলে বিচরণ করতে দেখা যেতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, পরীক্ষাগারে ম্যামথের বৈশিষ্ট্য তৈরি করা গেলেও প্রকৃত পরিবেশে তাদের টিকিয়ে রাখা অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। প্রচণ্ড ঠান্ডা, খাদ্য, আবাসস্থল এবং প্রজননসহ নানা বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।
বিলুপ্ত প্রাণীকে আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। অতীতে বিলুপ্ত বা হারিয়ে যাওয়া কিছু প্রাণীর বংশবিস্তার এবং তাদের উপযুক্ত পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার নানা গবেষণা হয়েছে। তবে ম্যামথের ক্ষেত্রে জিনপ্রযুক্তির এত বড় পরিসরের ব্যবহার এই উদ্যোগকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা সফল হলে হাজার হাজার বছর আগে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া ম্যামথের মতো প্রাণীকে আবারও পৃথিবীর বুকে দেখা যেতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে পারবে কি না, তা নির্ভর করছে জটিল জিনগত গবেষণা ও পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর সাফল্যের ওপর।
প্রতি / এডি / শাআ



















