হ্রদের পানির নিচে লুকিয়ে ছিল আস্ত এক শহর, আবিষ্কারে চমকে উঠলেন গবেষকেরা
কিরগিজস্তানের একটি হ্রদের তলদেশে সন্ধান মিলেছে এমন এক শহরের, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে এত দিন তেমন কোনো ধারণা ছিল না। একসময় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই জনপদ মধ্য এশিয়ার ঐতিহাসিক সিল্ক রুটের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। দীর্ঘকাল পানির নিচে আড়ালে থাকা শহরটির সন্ধান পাওয়ার পর এর অতীত ইতিহাস নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শহরটির অবস্থান কিরগিজস্তানের ইসিককুল হ্রদের তলদেশে। শত শত বছর ধরে পরিচিত এই হ্রদের পানির নিচে যে একটি প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ লুকিয়ে থাকতে পারে, তা আগে জানা ছিল না। সম্প্রতি অনুসন্ধান চালানোর সময় গবেষকেরা সেখানে ডুবে যাওয়া শহরের অস্তিত্বের সন্ধান পান।
তবে পানির নিচে শহরটির বিস্তৃতি কতটা, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। হ্রদের গভীরে আলো কম থাকায় ধ্বংসাবশেষের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে শহরটির প্রকৃত আয়তন, গঠন ও অন্যান্য নিদর্শন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।
গবেষকদের ধারণা, প্রাচীন এই শহরটি একসময় আঞ্চলিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। ঐতিহাসিক সিল্ক রুটের একটি পথ মধ্য এশিয়ার এই অঞ্চল দিয়ে বিস্তৃত ছিল। চীন থেকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত বাণিজ্যপথে পণ্য ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান চলত নিয়মিত। সেই যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে শহরটির সম্পর্ক ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিল্ক রুট শুধু পণ্য পরিবহনের পথ ছিল না, বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিনিময়েরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। এই পথের সঙ্গে যুক্ত কোনো শহরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হলে তা ওই সময়ের বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং জনবসতির ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে।
তবে শহরটির প্রাচীন নাম কী ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কীভাবে জনবসতিটি পরিত্যক্ত হলো এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে তা হ্রদের পানির নিচে তলিয়ে গেল, সেসব প্রশ্নের উত্তরও অজানা রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কোনো ভূমিকম্পের কারণে শহরটি পানির নিচে চলে গিয়ে থাকতে পারে। তবে এই ধারণার পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ভূপ্রাকৃতিক পরিবর্তন, হ্রদের পানির স্তর এবং ধ্বংসাবশেষের অবস্থান বিশ্লেষণ করে শহরটির হারিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
ইসিককুল হ্রদের তলদেশে পাওয়া এই নিদর্শন তাই শুধু একটি হারিয়ে যাওয়া শহরের সন্ধান নয়, মধ্য এশিয়ার প্রাচীন জনবসতি ও বাণিজ্যিক ইতিহাস অনুসন্ধানেরও নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। চলমান গবেষণায় শহরটির পরিচয়, আয়তন ও বিলুপ্তির কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর গবেষকদের।
প্রতি / এডি / শাআ


















