প্রতিদিনের যেসব অভ্যাস অজান্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে কোলেস্টেরল

প্রকাশঃ আগস্ট ১৮, ২০২৬ সময়ঃ ৯:১৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:১৯ অপরাহ্ণ

উচ্চ কোলেস্টেরল অনেক সময় শরীরে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ তৈরি করে না। এ কারণে অনেকে বিষয়টি বুঝতে পারেন না, যতক্ষণ না রক্ত পরীক্ষায় সমস্যাটি ধরা পড়ে। রক্তে অতিরিক্ত এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমতে থাকলে ধমনিতে চর্বির আস্তরণ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর সঙ্গে হৃদ্‌রোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বয়স ও বংশগত কারণ কোলেস্টেরলের মাত্রায় প্রভাব ফেললেও দৈনন্দিন জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সাধারণ অভ্যাস নিয়মিত চলতে থাকলে তা অজান্তেই কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

১. নাস্তায় নিয়মিত চর্বিযুক্ত খাবার

সকালের নাস্তায় পরোটা, ভাজাপোড়া, মাখন, চর্বিযুক্ত মাংস বা প্রক্রিয়াজাত মাংসজাত খাবার নিয়মিত রাখলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

মাখন, ঘি, চর্বিযুক্ত মাংস, সসেজ, পনির, ক্রিম, কেক ও পেস্ট্রির মতো খাবারে এ ধরনের চর্বি থাকতে পারে। তাই নাস্তায় বৈচিত্র্য আনা এবং তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

২. স্বাস্থ্যকর খাবারও অতিরিক্ত খাওয়া

বাদাম, বীজ ও কিছু উদ্ভিজ্জ তেল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। কিন্তু কোনো খাবার উপকারী হলেই সেটি ইচ্ছেমতো বেশি খাওয়া যাবে, এমন নয়। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ হতে পারে।

আরেকটি সমস্যা হলো স্বাস্থ্যকর নাস্তার পরিবর্তে নিয়মিত বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি, ভাজা খাবার ও প্যাকেটজাত স্ন্যাকস খাওয়া। এসব খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক খাদ্যাভ্যাসসংক্রান্ত সুপারিশগুলোতে কম প্রক্রিয়াজাত খাবার, শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য, ডাল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অতিরিক্ত চিনি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

৩. দীর্ঘ সময় বসে থাকা

প্রতিদিন কিছু সময় ব্যায়াম করলেও যদি দিনের অধিকাংশ সময় বসে কাটে, তাহলে তা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ নিষ্ক্রিয় থাকা শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

এর জন্য প্রতিদিন কঠিন ব্যায়াম করতেই হবে এমন নয়। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা সিঁড়ি ব্যবহার করার মতো সহজ কর্মকাণ্ডও উপকারী হতে পারে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য রাখা যেতে পারে।

একটানা বসে থাকার অভ্যাসও ভাঙতে হবে। কাজের ফাঁকে উঠে হাঁটা, ফোনে কথা বলার সময় হাঁটাহাঁটি করা কিংবা সম্ভব হলে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. নিয়মিত মিষ্টি পানীয় পান করা

সফট ড্রিঙ্কস, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফি, মিষ্টি ফলের পানীয় ও এনার্জি ড্রিঙ্কের মাধ্যমে অজান্তেই শরীরে অনেক বেশি চিনি ঢুকতে পারে।

চিনি ও কোলেস্টেরল এক বিষয় নয়। তবে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ বাড়তি ক্যালোরি খাওয়ার কারণ হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি ও কম পুষ্টিকর খাবারভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো নয়।

তাই নিয়মিত মিষ্টি পানীয়ের পরিবর্তে পানি বা কম চিনি যুক্ত পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।

৫. ধূমপান ও তামাকের অভ্যাস

ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে না, হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালীর ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলে। এটি কোলেস্টেরলের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে এবং রক্তনালীর ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।

ধূমপানের কারণে এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে পারে। একই সঙ্গে রক্তনালীর দেয়ালে ক্ষতি তৈরি হয়ে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে হৃদ্‌রোগের সামগ্রিক ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

তাই কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ধূমপান ছাড়ার পাশাপাশি তামাকের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করলেই হয় না। খাবারের ধরন, শারীরিক কর্মকাণ্ড, ধূমপান এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে কারও কোলেস্টেরল বেশি কি না, তা শুধু লক্ষণ দেখে বোঝা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

প্রতি / এডি / শাআ

 

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G