ইরান ইস্যুতে যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে আরব আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নতুন এক মোড়ের দিকে যাচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে, আর এই প্রেক্ষাপটে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে পারে আমিরাত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে আবুধাবি। বাহরাইনের সমর্থনে প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে যেতে পারে বলে জানা গেছে।
সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা
আমিরাতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রণালিতে ইরানের স্থাপন করা মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। পাশাপাশি হরমুজ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ‘আবু মুসা’ দ্বীপ নিয়েও নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের দাবি করে আসছে আরব আমিরাত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন তৈরি হচ্ছে।
ইরানিদের ওপর কড়াকড়ি
সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় ইরানি নাগরিকদের জন্য আমিরাতে প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ভিসাধারী ছাড়া অন্যদের প্রবেশ বা ট্রানজিটে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুবাইয়ে থাকা ইরান-সম্পর্কিত কিছু প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থান
এদিকে ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানবিরোধী জোট গঠনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দেশটির নেতৃত্ব দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে সমন্বয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারে তারা পিছপা হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়েছিল, সেটি এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববাজারে প্রভাব
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে। এই পথে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
প্রতি / এডি / শাআ










