উত্তপ্ত দিল্লি, মহা-বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন মমতা
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র চলমান আন্দোলন আরও জোরালো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর রাজপথে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন বিরোধী নেতারা। এতে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের একসঙ্গে রাজপথে নামার ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও সামনে এসেছে।
এর আগে বুধবার একই দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী জোটের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। কর্মসূচির সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে কয়েকজন নেতাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
বুধবারের ওই ঘটনার পরদিনই আরও বড় পরিসরে কর্মসূচির প্রস্তুতি নেয় ‘ইন্ডিয়া’ জোট। বিরোধী দলগুলোর নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকের পর দিল্লির যন্তর মন্তরে একযোগে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
বিরোধী জোটের নেতাদের যন্তর মন্তরে নেওয়ার জন্য তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিভিন্ন দলের নেতাদের নিয়ে বাসগুলো নির্ধারিত কর্মসূচিস্থলের দিকে এগোতে থাকে।
তবে অশোক রোডের শাংরি-লা হোটেলের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বাসগুলোর পথ আটকে দেয়। ওই স্থানটি যন্তর মন্তর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। পুলিশের বাধার মুখে বাস থেকে নেমে সড়কেই অবস্থান নেন বিরোধী নেতারা।
সেখানে তারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন নেতাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাদের বাসে তুলে বারাখাম্বা রোড থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। এসব দাবিকে সামনে রেখে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে আরও বড় জমায়েত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মমতার যোগদানের ফলে দিল্লির রাজপথের এই আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতে আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিরোধীদের এই ধারাবাহিক কর্মসূচি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াবে কি না, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।
প্রতি / এডি / শাআ


















