খুশকি কমাতে আদা কতটা কার্যকর, জানুন ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
চুল পড়া, খুশকি, মাথার ত্বকে চুলকানি কিংবা চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া, এসব সমস্যা এখন অনেকেরই নিয়মিত ভোগান্তির কারণ। পরিবেশদূষণ, মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, হরমোনের ওঠানামা এবং অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের মতো বিভিন্ন কারণে চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চুলের পরিচর্যায় বাজারের বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি ঘরোয়া কিছু উপাদান নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। এসব উপাদানের মধ্যে আদা অন্যতম। আদায় জিনজেরলসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য যৌগ রয়েছে, যা মাথার ত্বকের পরিচর্যায় কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে আদা চুল পড়া বা খুশকির চিকিৎসার বিকল্প নয়।
মাথার ত্বকের যত্নে আদা
চুলের সুস্থতার জন্য স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক ভালো রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আদার কিছু সক্রিয় উপাদান মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। আদার সঙ্গে হালকা ম্যাসাজ করলে স্ক্যাল্পে সাময়িকভাবে সতেজ অনুভূতিও হতে পারে।
তবে আদা ব্যবহার করলেই চুলের গোড়া শক্ত হয়ে যাবে বা চুল পড়া বন্ধ হবে, এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
পাতলা চুলে আদা ও নারিকেল তেল
চুল ও মাথার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে নারিকেল তেল ব্যবহার করা হয়। চাইলে অল্প আদার রসের সঙ্গে নারিকেল তেল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে হালকা হাতে লাগানো যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
তবে আদার রস সরাসরি ব্যবহারে কারও কারও জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
খুশকির ক্ষেত্রে আদার ব্যবহার
খুশকির অন্যতম কারণ হলো মাথার ত্বকে ছত্রাকের অতিরিক্ত বৃদ্ধি। আদায় কিছু অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য থাকলেও খুশকি নিরাময়ে এটি কতটা কার্যকর, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
অনেকে আদার রসের সঙ্গে অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করেন। তবে লেবুর রসের মতো উপাদান সংবেদনশীল স্ক্যাল্পে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের মিশ্রণ ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি।
শুষ্ক চুলে আদা ও অ্যালোভেরা
অতিরিক্ত শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জেল ও অলিভ অয়েল চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। এর সঙ্গে সামান্য আদা মিশিয়ে ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে।
মিশ্রণটি চুলে কিছুক্ষণ রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে পারেন। তবে এতে চুলের গঠন স্থায়ীভাবে পরিবর্তন হবে বা চুল দ্রুত ঘন হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
চুলের ঘনত্ব বাড়াতে আদা-পেঁয়াজের রস?
চুল ঘন করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে আদার রস ব্যবহারের কথা প্রচলিত। পেঁয়াজে সালফারজাতীয় উপাদান থাকলেও আদা ও পেঁয়াজের রস একসঙ্গে ব্যবহার করে চুলের ঘনত্ব বাড়ানোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত গবেষণা নেই।
বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে এ ধরনের মিশ্রণ ব্যবহারে জ্বালা বা অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকতে পারে।
আদা ব্যবহারে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
প্রাকৃতিক উপাদান হলেও আদা সবার ত্বকের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। সরাসরি আদার রস ব্যবহারে কারও ত্বকে জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব, চুলকানি বা অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।
তাই ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। মাথার ত্বকে কাটা, ঘা বা সক্রিয় সংক্রমণ থাকলে আদা না লাগানোই নিরাপদ। ব্যবহারের পর অস্বাভাবিক জ্বালা বা চুলকানি হলে দ্রুত ধুয়ে ফেলতে হবে।
চুলের সুস্থতায় খাবার ও জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু তেল, প্যাক বা ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করলেই চুলের সব সমস্যা দূর হয় না। চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্কসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার নির্দিষ্ট অংশে চুল উঠে যাওয়া, তীব্র খুশকি বা স্ক্যাল্পে সংক্রমণের মতো সমস্যা থাকলে ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতি / এডি / শাআ



















