প্রায় দুই দশক ধরে তেলেগু ও তামিল চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অভিনেত্রীদের একজন কাজল আগরওয়াল। অভিনয়, খ্যাতি এবং আর্থিক সাফল্য মিলিয়ে তিনি এখন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ।
১৯৮৫ সালের ১৯ জুন ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন কাজল আগরওয়াল। পাঞ্জাবি পরিবারে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রীর পড়াশোনা ও শৈশব কেটেছে মুম্বাইয়েই। ছোটবেলা থেকেই মিডিয়া ও বিনোদন জগতের প্রতি তার আগ্রহ ছিল।
২০০৪ সালে হিন্দি চলচ্চিত্র ‘কিউ! হো গায়া না…’-এর মাধ্যমে অভিনয়জগতে প্রবেশ করেন কাজল। ছবিতে তার উপস্থিতি ছিল সংক্ষিপ্ত। ফলে শুরুতেই বড় ধরনের পরিচিতি পাননি তিনি। তবে হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
একই বছর তেলেগু সিনেমায় কাজের সুযোগ আসে। নতুন ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরুতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নির্মাতা ও দর্শকদের নজরে আসতে শুরু করেন।
২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মাগাধীরা’ কাজলের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এস এস রাজামৌলি পরিচালিত এই ছবিতে রামচরণের বিপরীতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। ছবিটির সাফল্যের পর তিনি দক্ষিণ ভারতের শীর্ষ নায়িকাদের একজন হয়ে ওঠেন।
‘ডার্লিং’, ‘মিস্টার পারফেক্ট’, ‘বিজনেসম্যান’, ‘বাদশাহ’, ‘থুপ্পাক্কি’, ‘মার্সাল’সহ অসংখ্য ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করেছেন কাজল। প্রভাস, মহেশ বাবু, জুনিয়র এনটিআর, রামচরণ এবং বিজয়ের মতো তারকাদের সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়।
দক্ষিণে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১১ সালে ‘সিংহাম’ ছবির মাধ্যমে আবারও বলিউডে আলোচনায় আসেন কাজল। অজয় দেবগনের বিপরীতে অভিনীত ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায় এবং তাকে সর্বভারতীয় পরিচিতি এনে দেয়।
ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তাকে শুধু গ্ল্যামারনির্ভর অভিনেত্রী বলে সমালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামান্থা, নয়নতারা, আনুশকা শেঠি ও তামান্না ভাটিয়ার মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও ছিল তীব্র। তবুও ধারাবাহিক অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।
২০২০ সালে ব্যবসায়ী গৌতম কিচলুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কাজল। পরে তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। পরিবার ও অভিনয়, দুই ক্ষেত্রই সমানভাবে সামলে চলছেন তিনি।
সিনেমা, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড প্রচারণা এবং বিভিন্ন বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন কাজল আগরওয়াল। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯৫ থেকে ১২০ কোটি টাকার সমান।
দীর্ঘ ক্যারিয়ার, অসংখ্য হিট সিনেমা এবং ধারাবাহিক জনপ্রিয়তার কারণে কাজল আগরওয়াল এখনও দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম নির্ভরযোগ্য তারকা। মুম্বাইয়ের এক সাধারণ তরুণী থেকে দক্ষিণের সফল অভিনেত্রী হয়ে ওঠার তার যাত্রা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প।
প্রতি / এডি / শাআ