পশুদেরও কি পোষা প্রাণী থাকে? জানুন কী বলছেন গবেষকরা
মানুষের মতো প্রাণীরাও কি অন্য কোনো প্রাণীকে পোষ মানিয়ে নিজেদের সঙ্গী হিসেবে রাখে? প্রশ্নটি শুনতে অদ্ভুত লাগলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রকৃতিতে এমন কিছু আচরণের উদাহরণ পাওয়া যায়, যদিও তা মানুষের পোষা প্রাণী পালনের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে না।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু প্রাণী অন্য প্রজাতির প্রাণীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলে। তবে সেই সম্পর্ক সাধারণত সঙ্গ, পারস্পরিক উপকার বা নিরাপত্তার জন্য হয়, মানুষের মতো যত্ন নিয়ে পোষা প্রাণী পালনের উদ্দেশ্যে নয়।
এর অন্যতম পরিচিত উদাহরণ হলো কিছু প্রজাতির পিঁপড়া। তারা এফিড (Aphid) নামের ছোট কীটকে রক্ষা করে এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। বিনিময়ে এফিড থেকে মিষ্টি ধরনের তরল সংগ্রহ করে, যাকে বিজ্ঞানীরা “হানিডিউ” বলেন। অনেক গবেষক এই সম্পর্ককে রূপক অর্থে “পশু পালন” বা “চাষাবাদ” হিসেবে বর্ণনা করেন।
এ ছাড়া কিছু সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যেও পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ক দেখা যায়। যেমন ক্লাউনফিশ ও সি অ্যানিমোন একে অপরকে সুরক্ষা ও সুবিধা দেয়। তবে এটি পোষা প্রাণীর সম্পর্ক নয়, বরং পারস্পরিক সহাবস্থান।
আবার মানুষের সঙ্গে বসবাসকারী কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণী অনেক সময় অন্য প্রাণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। যেমন কুকুরের সঙ্গে বিড়াল, ঘোড়া বা হাঁসের বন্ধুত্বের ঘটনা দেখা যায়। কিন্তু এগুলোকে বৈজ্ঞানিক অর্থে “পোষা প্রাণী” বলা হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রাণীকে মানুষের মতো পরিকল্পিতভাবে খাবার, আশ্রয় ও প্রজননের দায়িত্ব নিয়ে লালন-পালন করার আচরণ এখন পর্যন্ত কেবল মানুষের মধ্যেই স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
অর্থাৎ, প্রাণীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহাবস্থান বা পারস্পরিক সহযোগিতার বহু উদাহরণ থাকলেও মানুষের মতো করে অন্য প্রাণীকে পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করার ঘটনা প্রকৃতিতে অত্যন্ত বিরল।
প্রতি / এডি / শাআ























