অপ্রতিমকে কোথায়, কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, জানাল পুলিশ

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৫২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫২ অপরাহ্ণ

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের কারণও উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও একজনকে আটক করে তার সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এবং কামরুল হাসান। এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে তার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে যায়। পরে সেখান থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানায়, অপ্রতিমের মোবাইল ফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে ওই নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য পায় তদন্তকারী দল।

পুলিশ জানায়, তুহিনের তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। এরপর কামরুলকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে সে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, ওই আঘাতের পর অপ্রতিমের মৃত্যু হয়। পরে তুহিন তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলকে সঙ্গে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G