এসি নয়, ঘরের এই বৈদ্যুতিক যন্ত্রগুলোও বাড়াতে পারে বিদ্যুৎ বিল
বাড়ির বিদ্যুৎ বিল বেশি এলেই অনেকের প্রথম সন্দেহ যায় এয়ার কন্ডিশনার (এসি)-এর দিকে। তবে বাস্তবে শুধু এসিই বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে, এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ঘরে ব্যবহৃত কয়েকটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রের তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ চাহিদা (ওয়াট) একটি সাধারণ ১.৫ টন এসির চেয়েও বেশি হতে পারে।
যদিও এসব যন্ত্র সাধারণত অল্প সময় ব্যবহার করা হয়, তবু চালু থাকা অবস্থায় এগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তাই সচেতনভাবে ব্যবহার করলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল কমানো সম্ভব।
১. গিজার বা ওয়াটার হিটার
গরম পানি তৈরির জন্য ব্যবহৃত গিজার সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচকারী গৃহস্থালি যন্ত্রগুলোর একটি। অনেক গিজারের ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার ওয়াট পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফলে এটি এক ঘণ্টা চালালে প্রায় ৩ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় চালু রাখলে বিদ্যুৎ বিল দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
২. হেয়ার ড্রায়ার
আকারে ছোট হলেও হেয়ার ড্রায়ারের বিদ্যুৎ ব্যবহার কম নয়। অনেক মডেলের ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ২০০ ওয়াট পর্যন্ত হয়। এক ঘণ্টা ব্যবহার করলে প্রায় ২.২ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। যদিও দৈনন্দিন ব্যবহারে এটি সাধারণত কয়েক মিনিটের বেশি চালানো হয় না।
৩. ইনডাকশন কুকটপ
দ্রুত রান্নার সুবিধার কারণে ইনডাকশন কুকটপের ব্যবহার বাড়ছে। একটি সাধারণ ইনডাকশন কুকটপ প্রায় ২ হাজার ১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। টানা এক ঘণ্টা চালালে প্রায় ২.১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। তাই রান্না শেষ হলে দ্রুত বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
৪. ইলেকট্রিক কেটলি
চা, কফি কিংবা গরম পানি তৈরিতে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক কেটলির ক্ষমতাও প্রায় ২ হাজার ২০০ ওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। যদিও এটি সাধারণত অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়, তবুও অপ্রয়োজনে বারবার ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে।
৫. মাইক্রোওয়েভ ওভেন
খাবার গরম করা কিংবা রান্নার কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোওয়েভ ওভেনের বিদ্যুৎ চাহিদাও বেশ বেশি। অনেক মডেলের ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ১০০ ওয়াট। তবে এটি স্বল্প সময় ব্যবহৃত হওয়ায় মোট বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে।
তাহলে এসির বিল বেশি আসে কেন?
অনেক সময় একটি এসির তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ চাহিদা গিজার বা হেয়ার ড্রায়ারের চেয়ে কম হতে পারে। কিন্তু এসি সাধারণত টানা ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় চলে। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের কারণেই দিনের শেষে মোট বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেশি হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ বিল কমানোর কয়েকটি কার্যকর উপায়
- প্রয়োজন শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ করুন।
- গিজার ও ইনডাকশন কুকটপ অযথা চালু রাখবেন না।
- ইলেকট্রিক কেটলিতে প্রয়োজনের বেশি পানি গরম করা এড়িয়ে চলুন।
- হেয়ার ড্রায়ার ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত সময় ব্যবহার করুন।
- উচ্চক্ষমতার যন্ত্র ব্যবহারে সচেতন হলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
প্রতি / এডি / শাআ



















