ত্বকের যত্নে ঘরেই তৈরি করুন নিমের সাবান, জেনে নিন সহজ পদ্ধতি
ত্বকের পরিচর্যায় নিমপাতার ব্যবহার অনেক পুরোনো। নিমে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ত্বক পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বক বা ব্রণপ্রবণ ত্বকের যত্নে অনেকেই নিম ব্যবহার করেন।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের নিমের সাবান পাওয়া গেলেও সেগুলোর উপাদান ও নিমের পরিমাণ একেক রকম হতে পারে। চাইলে সহজ কিছু উপকরণ ব্যবহার করে বাড়িতেই তৈরি করা যায় নিমের সাবান। তবে নতুন কোনো উপাদান ত্বকে ব্যবহারের আগে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
যা যা লাগবে
ঘরে নিমের সাবান তৈরি করতে প্রয়োজন হবে:
- ২৫০ গ্রাম গ্লিসারিন সাবান বেস
- ২৫ থেকে ৩০টি তাজা নিমপাতা
- আধা চা-চামচ হলুদ গুঁড়া
- ২ থেকে ৩টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল
- ৪ ফোঁটা নিমের সুগন্ধি তেল
সাবান তৈরির পদ্ধতি
প্রথমে নিমপাতাগুলো পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর পাতাগুলো সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিতে হবে। পাতায় পানি থাকলে সাবানের মিশ্রণের ঘনত্বে পরিবর্তন আসতে পারে।
শুকনো নিমপাতা মিক্সারে দিয়ে পানি ছাড়াই ভালোভাবে পিষে নিন। এবার নিমের পেস্টের সঙ্গে হলুদ গুঁড়া, ভিটামিন ই ক্যাপসুলের ভেতরের তেল এবং নিমের সুগন্ধি তেল মিশিয়ে নিন।
অন্যদিকে গ্লিসারিন সাবান বেস ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এগুলো মাইক্রোওয়েভে অল্প অল্প করে গলিয়ে নিতে পারেন। চাইলে গরম পানির ওপর পাত্র বসিয়ে ধীরে ধীরেও সাবান বেস গলানো যায়।
সাবান বেস পুরোপুরি তরল হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে তাতে তৈরি করা নিমের মিশ্রণ ঢেলে দিন। এরপর সব উপকরণ ভালোভাবে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন।
মিশ্রণটি প্রস্তুত হলে সাবানের ছাঁচে ঢেলে দিন। এবার ছাঁচটি ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিন। সাবান শক্ত হয়ে গেলে ছাঁচ থেকে বের করে ব্যবহার করা যাবে।
ব্যবহারের আগে সতর্কতা
ঘরে তৈরি হলেও এই সাবান সবার ত্বকে একইভাবে মানাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বক হলে প্রথম ব্যবহারের আগে অল্প পরিমাণ সাবান ত্বকের ছোট একটি জায়গায় লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
ব্যবহারের পর ত্বকে জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব, চুলকানি বা অন্য কোনো অস্বস্তি দেখা দিলে সাবানটি ব্যবহার করা বন্ধ করুন। ত্বকে আগে থেকেই কোনো সমস্যা থাকলে নতুন কোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
প্রতি / এডি / শাআ



















