দোটানায় মোদি সরকার; হাসিনা নাকি সুচি?

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭ সময়ঃ ১২:১৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:১৯ অপরাহ্ণ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ক্রমেই সংকট বাড়ছে। মিয়ানমারের সেনা ও বৌদ্ধদের নির্যাতনে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে লাখ রোহিঙ্গা। এমন মানবিক পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মিয়ানমার সরকারেই সমর্থন দিয়েছে ভারত ও চীন। তবে একদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে মিয়ানমারের আউং সান সু চি। প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের দুই নেত্রীর মধ্যে কাকে কতটা সমর্থন করা হবে তা নিয়ে দোটানায় মোদি সরকার।

ডোকলাম বিতর্ক মেটার পরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়ে চীন থেকে মিয়ানমার সফরে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখান রোহিঙ্গা গিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে ভারত। একইসঙ্গে ভারতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রুখতে বিভিন্ন রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার কেন্দ্রের নির্দেশ মানতে রাজি না হলেও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরানোর কাজ (পুশব্যাক) শুরু করেছে। এমনকি জম্মু-কাশ্মীরে থাকা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ভারত।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে মোদী সরকারের ওপরে চাপ দিচ্ছে অন্য সংগঠনগুলোও। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা সুরেন্দ্র জৈন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জঙ্গি যোগের জন্য তাদের ভারতে রাখা নিরাপদ নয়। সম্প্রতি কাশ্মীরে নিহত এক জঙ্গির পরিচয় নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, সে রোহিঙ্গা।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকায় মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিয়ে কূটনৈতিক চূড়ান্তপত্র দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মিয়ানমারকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ করা না হলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নজরদারি চালাতে বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে মিয়ানমার।

ভারতের কাছেও রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও শেখ হাসিনাকে ফোন করে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিয়ে ভারত বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনজাতির আলাদা পরিচয় মানতে রাজি না হওয়ার পেছনে যে যুক্তি ‘রোহিঙ্গারা বাঙালি মুসলিম’ দেখিয়েছে তা মেনে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

অন্যদিকে জাতিসংঘ বলছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারেই আশ্রয় দিতে হবে। তাদের আলাদা জাতি পরিচয়ও মানতে হবে মিয়ানমার সরকারকে। ফলে পরিস্থিতি যে অত্যন্ত জটিল তা মেনে নিচ্ছে দিল্লি।

দেশটির কূটনীতিকদের মতে, মিয়ানমারে চিনা প্রভাব ঠেকানোর জন্য সু চি সরকারের কাছাকাছি আসতে চাইছে ভারত। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গেও চিনের সম্পর্ক দ্রুত বাড়ছে। ফলে মিয়ানমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে গিয়ে বাংলাদেশকে চিনের হাতে ঠেলে দেয়া যুক্তিসঙ্গত হবে কি না? বিষয়টি নিয়ে উভয় সঙ্কটে ভারত।

সূত্র : আননন্দবাজার।

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G