লিভার সুস্থ রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন যে খাবারগুলো

প্রকাশঃ আগস্ট ২৫, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৪১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৪১ অপরাহ্ণ

লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্ত থেকে বিভিন্ন পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করা, ওষুধ ও অন্যান্য রাসায়নিক ভাঙা, পিত্তরস তৈরি এবং শরীরের নানা বিপাকীয় কাজে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই লিভারের সুস্থতা ধরে রাখতে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, লিভারকে আলাদা করে ‘পরিষ্কার’ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা পানীয়ের প্রয়োজন নেই। সুস্থ লিভার নিজস্ব প্রক্রিয়াতেই শরীরের বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করে। বরং পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল, চর্বিযুক্ত ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলাই লিভারের জন্য বেশি উপকারী।

কিছু খাবার লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সহায়তা করতে পারে। সেগুলো হলো—

রসুন

রসুনে সালফারযুক্ত বিভিন্ন যৌগ রয়েছে। পাশাপাশি এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানও পাওয়া যায়। পরিমিত পরিমাণে রসুন খাদ্যতালিকায় রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি লিভারের জন্যও উপকারী হতে পারে।

সাইট্রাসজাতীয় ফল

কমলা, লেবু, মাল্টা ও জাম্বুরার মতো ফলে ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব ফল সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে খাওয়া যায়। তবে শুধু এসব ফল খেলেই লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়, এমন প্রমাণ নেই।

সবুজ শাকসবজি

ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং বিভিন্ন পাতাযুক্ত শাকে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। নিয়মিত শাকসবজি খাওয়া শরীরের সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। লিভারের যত্নেও এ ধরনের খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

হলুদ

হলুদে কারকিউমিন নামের একটি সক্রিয় উপাদান রয়েছে, যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। রান্নায় মসলা হিসেবে পরিমিত হলুদ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় হলুদ বা কারকিউমিনের সম্পূরক গ্রহণ নিরাপদ নাও হতে পারে।

আখরোট

আখরোটে স্বাস্থ্যকর চর্বি, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও পাওয়া যায়। পরিমিত পরিমাণে বাদাম খাওয়া সামগ্রিক হৃদ্‌যন্ত্র ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

বিটরুট

বিটরুটে নাইট্রেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। তবে বিটরুট সরাসরি লিভার ‘পরিষ্কার’ করে, এমন দাবি করার মতো শক্ত প্রমাণ নেই।

গাজর

গাজরে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। শরীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিটা-ক্যারোটিনকে ভিটামিন এ-তে রূপান্তর করতে পারে। নিয়মিত শাকসবজির অংশ হিসেবে গাজর খাওয়া পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য ভালো।

গ্রিন টি

গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত গ্রিন টি পান করা যেতে পারে। তবে গ্রিন টি ও গ্রিন টি-নির্যাস এক জিনিস নয়। উচ্চমাত্রার গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট কিছু ক্ষেত্রে লিভারের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের সম্পূরক গ্রহণ না করাই ভালো।

আপেল

আপেলে খাদ্যআঁশ, বিশেষ করে পেকটিন রয়েছে। খাদ্যআঁশ হজমতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। তাই ফল হিসেবে আপেল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, খাদ্যআঁশ এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে এটি খাওয়া যেতে পারে। তবে অ্যাভোকাডো খেলে সরাসরি লিভারের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়, এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

লিভার ভালো রাখতে শুধু খাবার নয়

লিভার সুস্থ রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, অতিরিক্ত চিনি ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ বা ভেষজ সম্পূরক গ্রহণ করাও ঠিক নয়।

অর্থাৎ, কোনো একটি ‘লিভার পরিষ্কারকারী’ খাবারের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়াই লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G