নেইমার-রোনালদোকে নয়, যাকে আইডল মনে করছে ব্রাজিলের নতুন প্রজন্ম

প্রকাশঃ জুলাই ২৬, ২০২৬ সময়ঃ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

ব্রাজিল মানেই ফুটবলের দেশ। পেলে, রোনালদো, রোমারিও, রিভালদো, জিকো, গারিঞ্চা, সক্রেটিস কিংবা নেইমারের মতো কিংবদন্তিদের দেশটিতে বড় হওয়া প্রায় প্রতিটি শিশুরই স্বপ্ন থাকে একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রেরণার কেন্দ্রেও ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকারাই।

তবে সময় বদলেছে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের জনপ্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ভিডিও প্ল্যাটফর্মের বিস্তারে ব্রাজিলের নতুন প্রজন্মের পছন্দেও এসেছে পরিবর্তন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অনেক ব্রাজিলিয়ান শিশু-কিশোর এখন নিজেদের সবচেয়ে বড় আদর্শ হিসেবে বেছে নিচ্ছে নরওয়ের গোলমেশিন আরলিং হালান্ডকে।

ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা শুধু গোল করার দক্ষতার জন্যই নয়, মাঠের আগ্রাসী উপস্থিতি, শৃঙ্খলা এবং ব্যক্তিত্বের কারণেও শিশুদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। অনেকেই তার মতো চুল রাখছে, তার জার্সি পরছে এবং ভবিষ্যতে তার মতো স্ট্রাইকার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

‘মিনি-হালান্ড’ ভিনির গল্প

ব্রাজিলের সান্তা কাতারিনা অঙ্গরাজ্যের ছয় বছর বয়সী ভিনিসিয়ুস কোরেয়াকে সবাই চেনে ‘মিনি-হালান্ড’ নামে। ছোটবেলায় লম্বা চুলের কারণে সহপাঠীরা তাকে মজা করে হালান্ডের সঙ্গে তুলনা করত। তখনও নরওয়েজিয়ান এই ফুটবলারের নামও জানত না সে।

মায়ের কাছ থেকে হালান্ডের ছবি দেখার পরই শুরু হয় তার প্রতি ভালোবাসা। এরপর থেকে নিয়মিত হালান্ডের খেলা দেখা, তার মতো চুল রাখা এবং তাকে অনুসরণ করাই হয়ে ওঠে ভিনির নিত্যদিনের অভ্যাস।

একসময় এই ছোট্ট ভক্তের গল্প পৌঁছে যায় হালান্ডের কাছেও। নিজের জন্মদিনে ভিডিওবার্তায় শুভেচ্ছা জানান নরওয়েজিয়ান তারকা। এমনকি ভিনির লম্বা চুলেরও প্রশংসা করেন। পরে ম্যানচেস্টার সিটিও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্রাজিলিয়ান হালান্ড’ হিসেবে ভিনিকে তুলে ধরে।

হালান্ডের মতো স্ট্রাইকার হওয়ার স্বপ্ন

রিও ডি জেনেইরোর নয় বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েল স্ক্লো সিমোয়েসও হালান্ডকে অনুসরণ করেই স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলছে। তার কথায়, হালান্ডের ধারাবাহিক গোল করার ক্ষমতাই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে তাকে।

নিজের ফুটবল একাডেমিতে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন গ্যাব্রিয়েল। সে বিশ্বাস করে, কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন হালান্ডের মতো সফল স্ট্রাইকার হওয়া সম্ভব।

শুধু তাই নয়, হালান্ডের কারণেই সে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থক হয়ে উঠেছে। তবে একটি বিষয়ে সে নিজের আলাদা পরিচয় রাখতে চায়। মজা করে তার মন্তব্য, “চুল আমি কাটব না, বরং হালান্ডই চাইলে আমার মতো চুল কাটতে পারে।”

বেন্তোর চোখেও আদর্শ হালান্ড

মিনাস জেরাইসের ১৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার বেন্তো আফোনসো মাচাদোর কাছেও হালান্ডই সেরা অনুপ্রেরণা। স্থানীয় ক্লাবে খেললেও নিজের খেলার ধরন গড়ে তুলছেন নরওয়েজিয়ান এই ফরোয়ার্ডকে অনুসরণ করে।

হালান্ডের জার্সি সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে তার মতো চুল রাখা, সবকিছুতেই রয়েছে প্রিয় তারকার প্রভাব। মাঠে ভালো খেলতে শুরু করার পর অনেকেই তাকে ‘মিনি-হালান্ড’ নামে ডাকতে শুরু করে, যা তার কাছে গর্বের বিষয়।

বেন্তোর বাবা জানান, ছেলে শুধু হালান্ডের খেলা নয়, তার কঠোর অনুশীলন ও পেশাদার মানসিকতাকেও অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি পড়াশোনার সঙ্গে সমন্বয় করেও নিজের ফুটবল স্বপ্নকে এগিয়ে নিচ্ছে সে।

হালান্ডের প্রতি ভালোবাসা, তবু সবার আগে ব্রাজিল

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। ফলে হালান্ড-ভক্ত শিশুদের মনে তৈরি হয়েছিল এক ভিন্ন ধরনের আবেগ।

তাদের প্রায় সবার ইচ্ছাই ছিল, হালান্ড গোল করুক, কিন্তু ম্যাচ জিতুক ব্রাজিল।

ভিনি চেয়েছিল হালান্ড চারটি গোল করুক, যাতে সে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে এগিয়ে থাকে। তবে একই সঙ্গে তার আশা ছিল ব্রাজিল পাঁচ গোল করে ম্যাচ জিতবে।

গ্যাব্রিয়েলের পূর্বাভাস ছিল ব্রাজিল ২-১ ব্যবধানে জিতবে এবং নরওয়ের একমাত্র গোলটি করবেন হালান্ড। বেন্তোও চেয়েছিল হালান্ড গোল করুক, কিন্তু জয়টা যাক ব্রাজিলের ঝুলিতে।

কিন্তু বাস্তবে সেই আশা পূরণ হয়নি। হালান্ড দুটি গোল করেন এবং নরওয়ে ২-১ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেয়।

এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, আধুনিক ফুটবলে জাতীয় দলের প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকলেও ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রে দেশের সীমানা এখন আর বাধা নয়। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের তারকা নিজের প্রতিভা, পরিশ্রম ও সাফল্যের মাধ্যমে অন্য দেশের শিশুদেরও স্বপ্নের নায়ক হয়ে উঠতে পারেন।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G