পাখিদের মধ্যে কার গান সবচেয়ে মধুর, জানা গেল গবেষণায়

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

সকালে ঘুম ভাঙার পর জানালার বাইরে থেকে ভেসে আসা পাখির ডাক অনেকের মন ভালো করে দেয়। তবে সব পাখির কণ্ঠ মানুষের কানে একই রকম সুখকর নয়। কোনো পাখির সুর শুনে প্রশান্তি আসে, আবার কোনো পাখির ডাক বিরক্তিকর বা কর্কশ মনে হতে পারে। মানুষের এই পছন্দ-অপছন্দের পেছনে আসলে কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ আছে কি না, এবার সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন গবেষকেরা।

জার্মানির টুবিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এ বিষয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন। গবেষণায় ৮৪ জন অংশগ্রহণকারীকে ১২৩ প্রজাতির বুনো পাখির রেকর্ড করা গান ও ডাক শোনানো হয়। প্রতিটি শব্দ তাঁদের কাছে কতটা আনন্দদায়ক বা মধুর মনে হয়েছে, তা ৫-এর মধ্যে নম্বর দিয়ে জানাতে বলা হয়।

ফলাফলে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে ইউরেশীয় ব্ল্যাকবার্ড। পাখিটির গানের গড় স্কোর ছিল ৪ দশমিক ৫২। অন্যদিকে সবচেয়ে কম নম্বর পেয়েছে বার্ন আউল বা লক্ষ্মীপ্যাঁচার ডাক, যার গড় স্কোর মাত্র ১ দশমিক ৩২।

তবে গবেষণার গুরুত্ব শুধু কোন পাখি সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের কানে কোনো পাখির গান কেন আনন্দদায়ক মনে হয়, সেই বিষয়েও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছেন গবেষকেরা। গবেষণার ফলাফল ১ সেপ্টেম্বর ‘ফ্রন্টিয়ার্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ও টুবিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী নাদিন কালবের মতে, পাখির গান উপভোগ করার বিষয়টি শুধু শ্রোতা কী শুনছেন, তার ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে শব্দের কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্যও সম্পর্কিত।

ব্ল্যাকবার্ডের গানে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধতা

গবেষণার অংশ হিসেবে ৮৪ জনকে বিভিন্ন প্রজাতির ১২৩টি বুনো পাখির গান ও ডাক শোনানো হয়। প্রতিটি শব্দ তাঁদের কাছে কতটা আনন্দদায়ক লেগেছে, তা নির্দিষ্ট স্কেলে মূল্যায়ন করতে বলা হয়।

এই পরীক্ষায় শীর্ষে উঠে আসে ইউরেশীয় ব্ল্যাকবার্ড। পাখিটির গান কোমল, সুরেলা এবং অনেকটা বাঁশির মতো শোনায়। ইউরোপের বিভিন্ন বাগান, পার্ক ও বনাঞ্চলে এই পাখির দেখা মেলে।

অন্যদিকে তালিকার একেবারে নিচে ছিল বার্ন আউল বা লক্ষ্মীপ্যাঁচা। এর ডাকের গড় স্কোর ১ দশমিক ৩২। তীক্ষ্ণ ও কর্কশ ধরনের এই ডাক অনেকের কাছে ভৌতিক চিৎকারের মতো শোনাতে পারে।

এ ছাড়া ইউরোপীয় গোল্ডফিঞ্চ পেয়েছে ৪ দশমিক ২৬, ইউরোপীয় রবিন ৪ দশমিক ০৪ এবং ব্লু টিট পেয়েছে ৩ দশমিক ৯২ নম্বর।

এরপর গবেষকেরা জানতে চেয়েছেন, ব্ল্যাকবার্ডের গানসহ কিছু পাখির কণ্ঠ মানুষের কাছে এতটা আনন্দদায়ক হওয়ার কারণ কী। সে জন্য অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া নম্বরের সঙ্গে পাখির গানগুলোর বিভিন্ন শব্দগত বৈশিষ্ট্য তুলনা করা হয়।

সহজ সুর নয়, জটিল গানও টানে মানুষকে

গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য ফল হলো, মানুষের কাছে সহজ ও বারবার একইভাবে ফিরে আসা শব্দই সবচেয়ে আকর্ষণীয় হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং তুলনামূলক জটিল গানের প্রতি অংশগ্রহণকারীদের বেশি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ও টুবিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিস্টফ র‍্যান্ডলার বলেন, সহজ এবং পুনরাবৃত্তিমূলক শব্দ মানুষের জন্য প্রক্রিয়াজাত করা সহজ হওয়ায় সেগুলো বেশি পছন্দ হওয়ার কথা মনে হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষার ফল সে ধারণার সঙ্গে মেলেনি। বরং জটিল শব্দের প্রতি বেশি আনন্দের অনুভূতি পাওয়া গেছে।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো একটি শব্দগত বৈশিষ্ট্য দিয়ে পাখির গানের মাধুর্য ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

নাদিন কালবের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্ল্যাকবার্ড, উইলো ওয়ার্বলার এবং ব্ল্যাকক্যাপের গান একে অপরের তুলনায় বেশ ভিন্ন। তারপরও তিনটি পাখিই মানুষের কাছ থেকে মধুরতার বিচারে ভালো নম্বর পেয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের কাছে একটি পাখির কণ্ঠ কতটা মনোরম লাগবে, তা ফ্রিকোয়েন্সি, শব্দের তীব্রতা বা অ্যামপ্লিটিউড এবং ব্যান্ডউইডথের মতো একাধিক বৈশিষ্ট্যের সম্মিলিত প্রভাবে নির্ধারিত হতে পারে। অর্থাৎ পাখির গানকে মধুর করে তোলার পেছনে একক কোনো সূত্র নেই।

গবেষকেরা মনে করেন, এসব ফলাফল পাখিরা কীভাবে মানুষের চারপাশের শব্দপরিবেশকে প্রভাবিত করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যতে পার্ক, শহরের সবুজ এলাকা এবং মানুষের বিশ্রাম ও স্বস্তির জন্য তৈরি স্থানগুলোর নকশাতেও এ ধরনের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

পাখির ডাক শুনলে ভালো লাগে কেন

পাখির গান মানুষের মনে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করার পেছনে বিবর্তনগত কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, সেটিও গবেষকদের আগ্রহের বিষয়।

একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, মানুষের দীর্ঘ বিবর্তনীয় ইতিহাসে আশপাশে পাখির স্বাভাবিক ডাক শোনা নিরাপদ পরিবেশের একটি সংকেত হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে। অর্থাৎ পাখিরা স্বাভাবিকভাবে ডাকছে মানে আশপাশে বড় কোনো বিপদ নেই, এমন একটি ধারণা মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত কোনো ব্যাখ্যা নয়।

ক্রিস্টফ র‍্যান্ডলার জানিয়েছেন, পাখির সঙ্গে মানুষের সাক্ষাৎ বা পাখির উপস্থিতি কেন অনেক সময় ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করে, সে প্রশ্ন থেকেই তাঁদের আগ্রহের সূত্রপাত। তাঁদের আগের গবেষণায় পাখি দেখার সঙ্গে মানসিক স্বস্তি ও পুনরুদ্ধারের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছিল।

এবার তাঁরা পাখির দৃশ্যের বদলে তার শব্দের দিকে মনোযোগ দেন। গবেষণায় পাখির কণ্ঠের জীববৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মানুষের সেই শব্দ উপলব্ধির বিষয়টি একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়নকে পাখির গানগুলোর বিভিন্ন শব্দগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করে গবেষকেরা বোঝার চেষ্টা করেছেন, কোন ধরনের শব্দ মানুষের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি সুরেলা বা আনন্দদায়ক মনে হয়।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও বদলে দিতে পারে পছন্দ

পাখির গান নিয়ে কাজ করা যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ওলগা ফেহার এ গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তাঁর মতে, মানুষের পাখির গান পছন্দ করার পেছনে কিছু জৈবিক কারণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি অন্যান্য গবেষণার উদাহরণও দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি গবেষণায় মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর নির্দিষ্ট ধরনের কণ্ঠস্বর পছন্দ করার ক্ষেত্রে কিছু মিলের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আরেক গবেষণায় মানুষের গান ও পাখির গানের ছন্দের মধ্যে কিছু সাদৃশ্যের বিষয় উঠে এসেছে।

তবে শুধু জীববিজ্ঞান দিয়ে মানুষের পছন্দ ব্যাখ্যা করা যায় না বলেও মনে করেন ফেহার। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিও এতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ফেহার জেব্রা ফিঞ্চের গান নিয়ে গবেষণা করেছেন। এই পাখির দ্রুতগতির ও কিছুটা যান্ত্রিক ধরনের গান অনেক মানুষের কাছে খুব একটা মনোরম নাও লাগতে পারে। কিন্তু ফেহার নিজে এই পাখির গান পছন্দ করেন। তাঁর মতে, পাখিটির গানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আনন্দদায়ক ব্যক্তিগত স্মৃতির কারণেই তাঁর কাছে সেই শব্দ আলাদাভাবে ভালো লাগে।

শহরের শব্দপরিবেশেও কাজে লাগতে পারে গবেষণা

পাখির গানের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণের বিষয়টি ভবিষ্যতে নগর পরিকল্পনাতেও বিবেচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

শহরে শব্দদূষণ কমানোর পাশাপাশি মানুষ কোন ধরনের প্রাকৃতিক শব্দ শুনতে স্বস্তি বোধ করে, সেটিও পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। পার্ক ও সবুজ এলাকার নকশায় পাখির উপস্থিতি এবং প্রাকৃতিক শব্দের সুযোগ রাখা এ ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য বিষয় হতে পারে।

তবে গবেষকেরা এখনই কোনো সরল সমাধানের কথা বলছেন না। শুধু কৃত্রিমভাবে কোনো জায়গায় পাখির গান বাজিয়ে দিলেই মানুষের মানসিক স্বস্তি বাড়বে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ক্রিস্টফ র‍্যান্ডলারের দলের আগের একটি গবেষণাতেও দেখা গেছে, প্রকৃত পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে শোনা পাখির গানের তুলনায় লাউডস্পিকারে অতিরিক্ত পাখির গান বাজানোর ক্ষেত্রে মানুষের সুস্থতার বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়নি।

র‍্যান্ডলারের মতে, পাখির কণ্ঠ শুধু তাদের নিজেদের যোগাযোগের মাধ্যম নয়। মানুষের চারপাশের প্রাকৃতিক শব্দপরিবেশেরও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পাখির ডাকের প্রতি মনোযোগ মানুষের চারপাশের প্রকৃতিকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। পাখিটি কী বার্তা দিচ্ছে, তা মানুষ বুঝতে না পারলেও তার গান মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে, ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করতে পারে এবং আশপাশের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পারে।

মধুর গানের পাখিই কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ

পাখির গান মানুষের কাছে কতটা আকর্ষণীয়, সেই বিষয়টি সংরক্ষণনীতির ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

ওলগা ফেহারের মতে, মানুষের কাছে বেশি সুরেলা মনে হওয়া পাখির প্রতি স্বাভাবিকভাবেই বেশি আগ্রহ তৈরি হতে পারে। এতে কম মধুর বা কর্কশ ডাকের পাখিগুলো মানুষের মনোযোগের বাইরে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

অর্থাৎ মানুষের শ্রুতিগত পছন্দ কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে, আবার অন্য প্রজাতির প্রতি মনোযোগ কমাতেও পারে। তাই পাখি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু মানুষের কাছে কোন পাখির গান সুন্দর, সেটিকে মানদণ্ড হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়।

ফেহারের মতে, গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষের সৌন্দর্যবোধের বিবর্তন বোঝার সুযোগ। কিছু গায়ক পাখি নিজেদের প্রজাতির অন্য সদস্যকে আকর্ষণ বা মুগ্ধ করার উদ্দেশ্যে গান গায়। মানুষের সৌন্দর্য উপলব্ধির সঙ্গে এই আচরণের কিছু মিল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানুষের পছন্দ কি সব জায়গায় একই

রয়্যাল হলোওয়ে, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের প্রাণীর যোগাযোগবিষয়ক গবেষক ও মনোবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক রবার্ট ল্যাচলানের মতে, নতুন গবেষণাটি পাখির গান মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষের পছন্দ কি শুধু উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দের ওপর নির্ভর করে? কারণ ব্ল্যাকবার্ড বা নাইটিঙ্গেলের মতো সুরেলা গান গাওয়ার জন্য পরিচিত কিছু পাখি তুলনামূলক নিচু স্বরের বাঁশির মতো শব্দ ব্যবহার করে।

ল্যাচলানের ধারণা, মানুষের শ্রুতিগত পছন্দের সঙ্গে ফ্রিকোয়েন্সির নির্দিষ্ট কিছু পরিসরের সম্পর্ক থাকতে পারে। একটি গানের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি জানলেই মানুষের পছন্দের পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না।

তিনি আরও মনে করেন, পাখির গান মানুষের কাছে কতটা ভালো লাগবে, তা শুধু শব্দের বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরিবেশও এতে প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাখি দেখার অভিজ্ঞতা ছিল কি না, তার সঙ্গে গান পছন্দের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে ল্যাচলানের মতে, পরিচিত পরিবেশ, স্মৃতি এবং কোনো নির্দিষ্ট পাখির সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মতো বিষয়ও মানুষের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

পাখির গান কেন মধুর, পুরো উত্তর এখনো অজানা

গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, মানুষের কাছে পাখির গান ভালো লাগার পেছনে একাধিক শব্দগত বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে কাজ করে। ফ্রিকোয়েন্সি, শব্দের তীব্রতা, ব্যান্ডউইডথ এবং গানের জটিলতা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এসব বৈশিষ্ট্য মানুষের মস্তিষ্ককে ঠিক কেন আনন্দ দেয়, তার পূর্ণ ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

গবেষকেরা মূলত চিহ্নিত করতে পেরেছেন, কোন ধরনের শব্দগত বৈশিষ্ট্য মানুষের কাছে বেশি মধুর মনে হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক কেন এসব বৈশিষ্ট্যকে পছন্দ করে, সেটি এখনও গবেষণার বিষয়।

ভবিষ্যতে গবেষকেরা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভিন্ন পরিবেশের মানুষের মধ্যে একই ধরনের পাখির গান সমানভাবে জনপ্রিয় কি না, তা পরীক্ষা করতে চান। পাশাপাশি মানুষের পছন্দের পেছনে জীববৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কোনটি কতটা ভূমিকা রাখে, সেটিও আরও বিশদে অনুসন্ধান করা হবে।

অর্থাৎ এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, পাখির গানের মাধুর্য শুধু কানে শোনা একটি সুন্দর শব্দের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শব্দের গঠন, মানুষের মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া, ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দীর্ঘ সম্পর্কও।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G